গণধর্ষণের শিকার সেই নারী ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পেল না । এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো অ্যাসিড হামলার শিকার হলেন লখনৌয়ের সেই নারী।
মাত্র কয়েকমাস আগে যখন তৃতীয়বার অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছিলেন, সেই সময়ে হাসপাতালে গিয়ে তাকে দেখে এসেছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে এসেছিলেন তিনি। ২৪ ঘণ্টার প্রহরার নির্দেশ দিয়েছিলেন পুলিশকে।
কিন্তু সেই সব কিছুকে তোয়াক্কা না করে ‘চেনা’ দুষ্কৃতীকারীরা আবার অ্যাসিড ছুড়ে পুড়িয়ে দিয়ে গেল সেই দলিত নারীকে। নয়বছর আগে গণধর্ষণের শিকার হওয়ার পর থেকে মামলা চালিয়ে যাওয়ার কারণে এই নিয়ে পাঁচবার অ্যাসিড হামলা হল তার উপর।
৩৫ বছর বয়সী ওই মহিলা চাকরি করেন লখনৌয়ের এক ক্যাফেতে। অ্যাসিড আক্রান্তরাই ওই ক্যাফেটি চালান। থাকেন আলিগঞ্জের এক হোস্টেলে। রাজ্য সরকারের নির্দেশ মতো সারাক্ষণ তার জন্য মোতায়েন থাকে সশস্ত্র প্রহরী। গতকাল, শনিবারও সেই প্রহরা ছিল। রাত আটটা থেকে নয়টার মধ্যে হোস্টেলের বাইরে হ্যান্ডপাম্প থেকে পানি নিতে বেরিয়েছিলেন ওই নারী। ওই সময়ই কাজে লাগিয়ে তার মুখে অ্যাসিড ছুড়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীকারীরা। তার মুখের ডান দিক পুড়ে গিয়েছে। ভর্তি করানো হয়েছে লখনৌয়ের কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে।
জমি নিয়ে বিবাদের জেরে দুই সন্তানের জননী ওই নারী ২০০৮ সালে গণধর্ষণের শিকার হন। ঘটনায় দুইজন গ্রেপ্তার হয়। তাদের বিচার চলছে। আক্রান্ত নারীর স্বামী জানিয়েছেন, সেই ঘটনার পর থেকেই অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য নানা ভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
এরপর ২০১১ সালে তার উপর প্রথম অ্যাসিড হামলা হয়। ২০১৩ সালে আবার অ্যাসিড ছোঁড়া হয় তার উপর। এর পর গত মার্চে তৃতীয়বার ওই মহিলার উপর অ্যাসিড হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। ট্রেনের মধ্যেই তার উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। তারপরই হাসপাতালে ওই নারীকে দেখতে গিয়েছিলেন সে সময় সদ্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়া আদিত্যনাথ। ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপত্তার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই অ্যাসিড হামলার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ।
কিন্তু এত কিছুর পরও আরও একবার তার মুখে অ্যাসিড ছোড়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে। অন্য দিকে লখনৌ পুলিশের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। শীঘ্রই দোষীদের গ্রেপ্তার করা যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
