জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের উত্তর কোরিয়া আবারো জাপান সাগরে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি ।
দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউহাপ জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল নয়টা ৪০ মিনিটে উত্তর পিয়ংগান প্রদেশ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়।
টোকিও বলছে, জাপান সাগরের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রটি পতিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে ওই অঞ্চলে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তা বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৯৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে এবং প্রায় ৪০ মিনিট উড়ার পর জাপান সাগরে পতিত হয়েছে।
চলতি বছর উত্তর কোরিয়া যে কয়টি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে আজকেরটি ১১তম। গত মে মাসেও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল উত্তর কোরিয়া।
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে পিয়ংইয়ং এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি পরমাণু পরীক্ষা চালিয়েছে এবং দেশটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। তবে চলতি বছরেই উত্তর কোরিয়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালো যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি করেছে। যদিও এপ্রিল মাসে উৎক্ষেপণের পর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ব্যর্থ হয়েছে।
৫ এপ্রিল জাপান সাগরে একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে উত্তর কোরিয়া। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর সিনপো থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। তার আগে ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার চীন সীমান্তের নিকটবর্তী তংচ্যাং-রি অঞ্চল থেকে জাপান সাগরে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তখন দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সম্ভবত আন্তঃমহাদেশীয় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম।
উত্তর কোরিয়ার যে কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক পরীক্ষার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু মার্চ মাসেও দেশটি চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যেগুলো ১০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জাপানের জলসীমায় গিয়ে পড়েছিল। সেই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী রেক্স টিলারসন চীনে সফর করছিলেন।
পারমাণবিক ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম চালানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো এবং জাতিসংঘ বেশ কয়েকবার নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও ওই কার্যক্রম থেকে সরে আসেনি উত্তর কোরিয়া।
