জাতিসংঘে নিযুক্ত  রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি এ বিষয়ে নিশ্চিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে দৃশ্যত ডনাল্ড ট্রাম্প অনিশ্চিত থাকলেও । তিনি বলেছেন, সবাই জানে যুক্তরাষ্ট্রের গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে রাশিয়া। এ কথা বাকি বিশ্বের অন্যরাও জানে। শুক্রবার জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ সাক্ষাত হয় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের। সেই বৈঠক স্থায়ী হয় প্রায় আড়াই ঘন্টা। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই পুতিনের সঙ্গে তার প্রথম বৈঠক। এর শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন ট্রাম্প। পরে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করে নি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের এমন দাবি মেনে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তার পরই হোয়াইট হাউস থেকে এর পাল্টা একটি বিবৃতি দেয়া হয়। বলা হয়, প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছ থেকে এমন কোনো ইঙ্গিত পান নি ট্রামপ। ওদিকে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেঁজ দুদা’কে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, আমার মনে হয় (যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের) পিছনে থাকতে পারে রাশিয়া। আমার এও মনে হয় যে, এর সঙ্গে অন্য আরো দেশ থাকতে পারে। কিন্তু ট্রাম্পের চেয়ে একধাপ এগিয়ে গেলেন জাতিসংঘে তার দূত নিকি হ্যালি। তিনি বলেছেন, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতেই জোর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাদেরকে এমনটা না করার অনুরোধ করেছেন। এ বিষয়ে সিএনএন’কে একটি সাক্ষাতকার দিয়েছেন নিকি হ্যালি। তা প্রচার হওয়ার আগেই এ বিষয়ে রিপোর্ট করেছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়েছে ওই সাক্ষাতকারে নিকি হ্যালি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চেয়েছিলেন পুতিন তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকুন, যাতে তিনি বুঝতে পারেন যে, আমরা জানতে পেরেছি আমাদের নির্বাচনে তারা হস্তক্ষেপ করেছিল। হ্যাঁ, আমরা জানি তোমরা এটা করেছো। আর এমনটা করো না। আমি মনে করি তিনি যা করেছেন বলে আমরা মনে করি এবং তিনি যেটা প্রত্যাখ্যান করেনÑ আসলে তিনি তাই করেছিলেন। এখন রাশিয়া তার মুখ রক্ষার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা তা পারবে না।
নিকি হ্যালি আরো বলেন, সবাই জানে আমাদের নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল। সবাই জানে তারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেই হস্তক্ষেপ করে নি। একই সঙ্গে তারা বিভিন্ন মহাদেশে এ কাজটি করছে। তারা যে উপায়ে এটা করছে তাতে বিভিন্ন দেশের ভিতরে বিশৃংখলা সৃষ্টি হচ্ছে।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট লিখেছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ট্রাম্পের শুক্রবারের বৈঠকে এ বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। এর পরদিন শনিবার পুতিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। তিনি বিশ্বাস করেন তার এ উত্তর মেনে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পুতিন বলেন, ওই বৈঠকে বিভিন্ন পয়েন্টে প্রশ্ন করা শুরু করেন ট্রাম্প। তিনি বিশেষ কিছু ইস্যুতে বিস্তারিত জানতে আগ্রহী ছিলেন। আমি যতটা পারি সুষ্ঠুভাবে বিস্তারিত তার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। আমি মনে করি ট্রাম্পের সঙ্গে আমার যে আলোচনা হয়েছে তার বিস্তারিত প্রকাশ করাই যথাযথ। তিনি আমাকে প্রশ্ন করেছেন। আমি উত্তর দিয়েছি। আমার মনে হয়েছে আমার উত্তরে তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন।
ওদিকে সাক্ষাতকারে সিএনএন থেকে নিকি হ্যালির কাছে জানতে চাওয়া হয়, রাশিয়া যদি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেই থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। এমন প্রশ্নে কোনো উত্তর দেন নি তিনি। তিনি সিবিএস’কে বলেছেন, এ বিষয়ে আপনারা প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনারা দেখেছেন বৈঠক করেছেন তারা দু’জন। তারাই জানেন রাশিয়া আমাদের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল। নিকি হ্যালি বলেন, আমি মনে করি প্রেসিডেন্ট পুতিন এ বিষয়ে জানতেন এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে চেষ্টা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পুতিন এটা অস্বীকার করলেও আমরা জানি তিনি কি করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছেন।

Share Now
February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728