সৌদি আরব ও তার তিন মিত্র দেশ- আমিরাত, বাহরাইন, মিসর চলমান সংকট নিরসনের জন্য কাতারকে নতুন ছয়টি শর্তের তালিকা দিয়েছে । কায়রো বৈঠকে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এসব শর্ত দেন।
মঙ্গলবার জাতিসংঘে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আল-মুয়াল্লিমি সাংবাদিকদের কাছে নতুন শর্তের এ তালিকার কথা জানান। তিনি বলেন, গত ৫ জুলাই কায়রো বৈঠকে চার আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নতুন শর্তের এ তালিকা তৈরি করেন। দেশগুলো আশা করছে- দোহা এ তালিকা মেনে নেবে।
নতুন তালিকায় বলা হয়, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে কাতারকে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করতে হবে। পাশাপাশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে তহবিল যোগানো এবং নিরাপদ আশ্রয় দেয়া বন্ধ করতে হবে। এছাড়া, পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে এমন যেকোনো ধরনের কথাবার্তা বন্ধ করতে হবে। এসব শর্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা অবশ্যই পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়ার অভিযোগ তুলে গত মাসের শুরুতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ নয়টি দেশ কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। অবশ্য, কাতার তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এই সংকটে কাতারের পাশে দাঁড়িয়েছে ইরান ও তুরস্ক। ওই দুই দেশ কাতারে খাদ্য পাঠিয়েছে। এছাড়া, শক্তি প্রদর্শনের জন্য সেনা ও সামরিক যান পাঠিয়েছে তুরস্ক।
পরে কাতার সংকট সমাধানে ১৩টি শর্ত দেয় দোহার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা চারটি আরব দেশ। এসব শর্তের মধ্যে আল-জাজিরা টেলিভিশন বন্ধ করে দেয়া এবং ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাসের কথাও আছে। এছাড়া, কাতারে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি বন্ধ এবং দেশটিতে অবস্থান করা ওই চার দেশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের হস্তান্তরেরও দাবি জানানো হয়।
এসব শর্ত মেনে নিতে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। সেই সময়সীমা শেষ হলে শর্ত মেনে নিতে দোহাকে আরো ৪৮ ঘণ্টা সময় দেয় সৌদি আরব। তবে এসব শর্তের একটিও মেনে নেয়নি কাতার।
