ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন যানবাহন নগরীতে ফের দাপড়িয়ে বেড়াচ্ছে । ক’দিন আগে এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে সিএমপি (চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ)’র ট্রাফিক বিভাগের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হওয়ায় রাস্তায় নামেনি এসব যানবাহন। কিন্তু অভিযান বন্ধের পর আবারো পুরনো চেহারায় আবির্ভূব যানবাহনগুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলাচলের অনুমতি নেই, এমন শতশত যানবাহন নগরীর বিভিন্ন রুটে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। নির্ধারিত সিলিং এর বাইরে এভাবে অধিক সংখ্যক যানবাহন চলাচলের কারণে বিভিন্ন সময়ে যানজট সৃষ্টির অভিযোগ আছে। এছাড়া বিআরটিএ কর্তৃক ২২ বছরের পুরনো বাস এবং ১৮ বছরের পুরনো হিউম্যান হলার চলাচলের রুট পারমিট না থাকলেও আইন অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এসব যানবাহন দিয়ে যাত্রী সেবা দিয়ে আসছেন। লক্করঝক্কর এসব যানবাহনে চড়ে বিভিন্ন সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রী সাধারণদের। এসবের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় নিবন্ধনহীন অন্যান্য যানবাহনও নগরীর রাস্তায় চলাচল করছে। ট্রাফিক পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, গত ১৮ জুলাই নগরীতে হঠাৎ করে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এসব ফিটনেস ও পারমিটবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করে। অভিযানের প্রথম দুই দিনে উত্তর ও বন্দর জোন মিলে দেড় হাজারের অধিক ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা এবং প্রায় ৩’শ গাড়ী আটক হয় তখন। ২২ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকে এ অভিযান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পুলিশের এমন অভিযানে বেকায়দায় পড়েন ফিটনেস ও পারমিটবিহীন যানবাহনের মালিক ও শ্রমিকেরা। অভিযানের সময় এসব যানবাহন রাস্তায় নামেনি। গণপরিবহন সংকট দেখা দেয় নগরীতে। অন্যদিকে অভিযানের বিরুদ্ধে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন চাপ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন সময় সভাসমাবেশের মাধ্যমে অবরোধ কর্মসূচি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

শেষমেষ পরিবহন মালিক শ্রমিক নেতাদের চাপ ও আন্দোলনের হুমকির মুখে পুলিশ এ বিশেষ অভিযান আপাতত বন্ধ রেখেছে।

এতে করে নগরীর বিভিন্ন রুটে আবারো ফিটনেস ও পারমিট বিহীন বাসমিনিবাস, হিউম্যান হলার, সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা যায়। তবে সিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ কোন শক্তির চাপের বিষয়টি স্বীকার করছে না।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) দেবদাস ভট্টাচার্য্য গতকাল আজাদীকে বলেন, বিশেষ অভিযান বন্ধ হয় নি। আবার আগস্টে এ ধরণের অভিযান পরিচালিত হবে। পর্যায়ক্রমে এমন অভিযান চলবে। কিন্তু এ সময়ে ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যহত আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে দেবদাস ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, শুধু ট্রাফিক বিভাগ অভিযান করলেই হচ্ছে না। এ অভিযানের সাথে সামগ্রিক বিষয় জড়িয়ে আছে। এখানে বিআরটিএ’র বিষয়ও আছে। এছাড়া অভিযানে নগরীর গনপরিবহন সংকট সৃষ্টি হয়, যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। বিশেষ অভিযান এখন না হলে পরে হবে। এ সময়ে যাদের ফিটনেস ও রুট পারমিট নেই তাঁরা তাঁদের গাড়ীর কাগজপত্র বিআরটিএ থেকে ঠিক করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

সিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী মোটরযানের সংখ্যা প্রায় পৌনে দুই লাখ। এর মধ্যে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাসের ফিটনেস নেই। ৩০ শতাংশ টেম্পু এবং ১৫ শতাংশ হিউম্যান হলার এবং ১৫ থেকে ২০ শতাংশ প্রাইভেট কারের ফিটনেস নেই।

সূত্র জানিয়েছে, বাসমিনিবাস বাদে বিআরটিএ কর্তৃক হিউম্যান হলার যানবাহনের জন্য ১৬ টি রুটে সিলিং নির্ধারণ ১৩১৪টি থাকলেও নগরীর বিভিন্ন রুটে চলছে তিন হাজারের অধিক হিউম্যান হলার। টেম্পো যানবাহনের জন্য ১৮ টি রুটে ২ হাজার ৩৮৭টি সিলিং নির্ধারণ আছে। এছাড়া নগরীতে ১৩ হাজার সিএনজি চালিত অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া থাকলেও অবৈধভাবে চলছে আরো হাজার হাজার সিএনজি অটোরিকশা ।

তবে ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যহত থাকতে দেখা যায়। দৈনন্দিন অভিযানে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ গত ২৮ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে ৫৪৬টি মামলা প্রদান করেন। এর আগের দিন করা হয় ৬০১টি মামলা।

 

Share Now
June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930