বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের রিভিউ পিটিশনের চিন্তাভাবনার মাধ্যমে সরকার সোজা পথে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, সংবাদপত্রে দেখলাম, সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দাখিল করবেন। এতোদিন পর সরকার এখন সোজা পথে এসেছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ফেনী আমার ফেনী’ নামক সংগঠনের উদ্যোগে প্রয়াত রাজনীতিক ও শিল্পপতি মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মওদুদ বলেন, আমি বলবÑ সেটাই যদি হয়, তাহলে এতোদিন যাবৎ এই আন্দোলন এবং প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অশ্লীল বক্তব্য রেখে বিচার বিভাগের যে ক্ষতি করা হলো তার পরিণতির জন্য সরকারই দায়ী থাকবে। মওদুদ বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের আন্দোলনের ঘোষণা ভয়াবহ। এই রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের রাজনৈতিক অবস্থান বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর একটি চরম আঘাত। এ রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও উচ্চ আদালতের ভাবমূর্তি, মান-সম্মান, মর্যাদা ধুলিসাৎ করে দিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি ওপেন কোর্টে বলেছেন, পাকিস্তানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে সুপ্রিম কোর্ট সরিয়ে দিয়েছে, সেখানে তো কোন কিছু হয়নি। নেওয়াজ শরীফের দল নেই? তার দল লাজেস্ট পলিটিক্যাল পার্টি ইন পাকিস্তান। সুপ্রিমকোর্ট রায় দিয়েছেন, তারা মেনে নিয়েছেন। সেখানে কী আন্দোলন হয়েছে? অসম্ভব কথা। আমার জীবনে কখনো শুনিনি, সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে সরকার এইভাবে আন্দোলনের ঘোষণা করে। সরকারের মন্ত্রীরা এমন ভাষায় বক্তব্য রেখেছেন। সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, ময়মনসিংহের মুন সিনেমা হলের মালিকরা মামলা করেছে তাদের হল ফেরত পাওয়ার জন্য। কিন্তু কোথায় তার মালিকানা, সেই মালিক এখনো তার মুন সিনেমা হল ফেরত পায়নি। কিন্তু আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এবিএম খায়রুল হক পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই লোকটা (খায়রুল হক) একজন নির্লজ্জ, অনৈতিক ব্যক্তি। প্রধান বিচারপতি হওয়ার কোন যোগ্যতা তার ছিলো না। দলীয় আনুগত্যের কারণে তাকে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছিল। আজকে তিনি একসময় প্রধান বিচারপতি ছিলেন, কী করে আরেকজন প্রধান বিচারপতি বা বর্তমান বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে সমালোচনা করতে পারেন। আপনি নিজে যদি আয়নার সামনে দাঁড়ান, নিজেকে যদি জিজ্ঞাসা করেন আপনি কী রায় দিয়েছিলেন পঞ্চম সংশোধনীতে? পঞ্চম সংশোধনীতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল রেখে দেয়া এবং বর্তমানে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরোধিতাকারী বিচারপতি খায়রুল হকের ‘দ্বৈত অবস্থান’। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক একজন সরকারি কর্মকর্তা, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান। জনগনের টাকা দিয়ে তার বেতন হয়। কোন আইনের অধীনে তিনি বক্তব্য রাখতে পারেন? সরকারি আচরণবিধি অনুযায়ী সরকারের কোন কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন না, বিশেষ করে রাজনৈতিক ইস্যুর ওপরে? সংগঠনের সভাপতি ও বিএফইউজে একাংশের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে ও জিয়া খন্দকারের পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রবীন সাংবাদিক এরশাদ মজুমদার, খোন্দকার মোজাম্মেল হক, দৈনিক সমকালের প্রধান প্রতিবেদক লোটন একরাম ও ফেনীর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা বেলাল মিল্লাত প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

Share Now
February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728