অন্ধকার জেল বিলাসবহুল ডেরা থেকে। কোটি কোটি রুপি মূল্যের সম্পত্তি থেকে দূরে, দিনে ৪০ রুপি মজুরির সশ্রম কারাদণ্ডে দিন কাটা শুরু হয়েছে গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের। রাতগুলো কাটছে জেগে।

স্বঘোষিত ধর্মগুরুর ২০ বছরের সাজা ঘোষণা হতেই তার ডেরার রহস্য নিয়ে মুখ খুলছেন অনেকে। অনেকে জানান, ভয়ে এত দিন চুপ ছিলেন তারা। এক সময়ে ডেরা সাচ্চা সৌদায় গুরমিতের গাড়িচালক ছিলেন খাট্টা সিং। ‘বাবা’র ভয়ে দশ বছর পালিয়ে বেড়ানো খাট্টা আজ বলেন, ‘আরও অনেক নির্যাতিতা মুখ খুলবেন। ডেরার সদর দপ্তরে আমার ভাইঝিও নির্যাতিতা হয়েছিলেন। তিনিও সামনে আসবেন।’

দশ বছর ডেরার ‘সেবাদার’ ছিলেন গুরদাস সিং। তার অভিযোগ, ‘হানিপ্রীত বলে যে নারী গুরমিতের দত্তক কন্যা বলে পরিচিত, তার সঙ্গে আসলে অবৈধ সম্পর্ক ছিল গুরমিতের।’

অবশ্য হানিপ্রীতের প্রাক্তন স্বামী বিশ্বাস গুপ্ত ২০১১ সালেই সাংবাদিক বৈঠকে অভিযোগ করেছিলেন, গুফায় হানিপ্রীতের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় গুরমিতকে দেখেছিলেন তিনি। এমনকী বাইরে যাওয়া হলে তিনি থাকতেন হোটেলের আলাদা কক্ষে। আর হানিপ্রীত ও গুরমিত থাকতেন এককক্ষে।

বিশ্বাস গুপ্ত বলেন, এসব ঘটনার পরেই তিনি ডেরা ছেড়ে পঞ্চকুলায় চলে আসেন। অথচ গুরমিতের উল্টো চাপে তাকে ও তার বাবা মহেন্দ্র পাল গুপ্তকে ডেরায় গিয়ে সকলের সামনে ক্ষমা চাইতে হয়। পরে বিশ্বাসের সঙ্গে বিবাহ-বিচ্ছেদ হয় হানিপ্রীতের। হানিপ্রীত হয়ে ওঠেন গুরমিতের ছায়াসঙ্গী। এমনকী জেলেও তাকে সঙ্গে রাখতে চেয়েছিলেন গুরমিত।

প্রশ্ন হল, এত জন নারী যদি নির্যাতিতা হন, তা হলে এত দিন তারা সামনে এলেন না কেন? তাদের বাবা-মায়েরাও তো ডেরায় ছিলেন, তারাও কেন সরব হলেন না?

গুরদাস জানালেন, ‘ডেরার সাধ্বীদের মধ্যে দুইটি ভাগ রয়েছে। একদল ব্রহ্মচারী, আর একদল সদব্রহ্মচারী। ব্রহ্মচারীরা সকলের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কিন্তু সদব্রহ্মচারীরা নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গেও একান্তে কথা বলতে পারতেন না। ফোন ব্যবহারও নিষিদ্ধ ছিল।এদের সঙ্গেই কুকর্ম করতেন ধর্মগুরু।’

গুরদাস আরও জানান, ‘সাধ্বীদের গুফায় নিয়ে যাওয়ার কোড ছিল। কেউ আপত্তি তুললে তাকে শায়েস্তা করার জন্য ছিল বিশেষ বাহিনী। যে প্রতিবাদ করতো ওই বাহিনী সদস্যরা তাকে মারধর করত, ভয় দেখাত।’

গুরদাসের দাবি, গতকাল থেকেই অনেক নারী তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তারাও গুরমিতের মুখোশ খুলতে চান।

Share Now
June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930