দেশে সেনাবাহিনী, পুলিশের নির্যাতন। পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বাড়িঘর। ধর্ষিত হচ্ছেন নারী। এ অবস্থায় পালিয়ে বিদেশে আশ্রয় নিয়েও রেহাই মিলছে না রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলিম নারীর। বাঁচাতে পারছেন না তার বা তাদের সম্ভ্রম। মালয়েশিয়ায় পালিয়ে সম্ভ্রম হারিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এক যুবতী। সেখানকার পেনাং দ্বীপের সিটি কাউন্সিলে কর্মরত এক নরপিশাচের চোখ পড়ে তার দিকে। ওই নরপিশাচ নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে ‘ওরাল সেক্সে’ বাধ্য করে। মালয়েশিয়ার অনলাইন দ্য স্টার পত্রিকা এ খবর প্রকাশ করার পর তোলপাড় চলছে চারদিকে। এতে বলা হয়, রোহিঙ্গা ওই যুবতী সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০ টায় বান্দার বারু এয়ার ইতাম এলাকায় একটি ক্ষেতের পাশ দিয়ে একা হেঁটে যাচ্ছিলেন। তখন মোটরসাইকেলে চড়ে সেখান দিয়ে যাচ্ছিল ২২ বছর বয়সী ওই নরপিশাচ। মালয়েশিয়ার জর্জটাউনের সহকারী কমিশনার আনোয়ার ওমর বলেছেন, ওই যুবতীর কাছে গিয়ে সে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেয়। ওই যুবতী কোথায় যাচ্ছিলেন এবং তার সঙ্গে পাসপোর্ট আছে কিনা এসব জানতে চায়। এরপর সে ওই যুবতীকে তার মোটরসাইকেলে উঠে বসতে বলে। যুবতী তার মোটর সাইকেলে উঠে বসতেই সে তা চালিয়ে নিয়ে যায় দূরে জালান থিয়ান তেইক এলাকায় একটি এপার্টমেন্ট ব্লকের ১৭ তলায় অবস্থিত একটি ফাঁকা ইউনিটে। সেখানে নিয়েই ওই যুবতীকে নগ্ন হতে নির্দেশ দেয় ওই ভুয়া পুলিশ পরিচয় দানকারী নরপিশাচ। এরপর সে নিজে তার শার্ট খুলে ফেলে। প্যান্ট খুলে ফেলে। তারপর ওই যুবতীকে ‘ওরাল সেক্সে’ মিলিত হতে নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ সময় তাকে এ কাজে বাধ্য করার পর ছেড়ে দেয়। তাকে পোশাক পরার পর বলা হয় কানের দুল, স্বর্ণের চেইন তার হাতে তুলে দিতে। এরপর তারা এপার্টমেন্ট থেকে চলে যাওয়ার জন্য লিফটের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এ সময় তাদেরকে দেখে সন্দেহ হয় ওই এপার্টমেন্টের একজন বাসিন্দার। তিনি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এতে বেরিয়ে আসে মূল ঘটনা। এ অবস্থায় ওই বাসিন্দা ওই যুবতীকে তার স্বর্ণালঙ্কার ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দেয় ওই নরপিশাচকে। তিনি পুলিশে ফোন দেন। পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলা হয়। এ সময় পুলিশ তার রিমা- চায়। তদন্তের জন্য তাকে আদালত আগামী রোববার পর্যন্ত রিমা- মঞ্জুর করেছেন। অন্যদিকে নির্যাতিত যুবতীকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে পরীক্ষার জন্য। তিনি স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে কাজ করেন।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031