মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে সেনাবাহিনী কর্তৃক চলমান সহিংসতায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো পয়েন্টে স্থলমাইন স্থাপন করেছে। এমনকি বাংলাদেশের আকাশসীমানা লংঘন করে হেলিকপ্টার দিয়ে মহড়াও দিয়েছে দেশটি। এছাড়া বাংলাদেশে বসতি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে মিয়ানমারের সীমন্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি)।
তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিপরীতে যথেষ্ট কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। যুদ্ধ এড়াতে বাংলাদেশ সহনশীলতা দেখিয়ে কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের দিকেই হাঁটছে বলে জানিয়েছে সরকারের উচ্চ মহল। বিষয়টি নিয়ে সরকারের শীর্ষ নেতারা বৈঠকও করেছেন। বাংলাদেশ কোনোভাবেই যুদ্ধে যেতে চায় না বলেই আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি ঢাকা সফর করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
এদিকে, মিয়ানমার কর্তৃক বাংলাদেশের আকাশসীমানা লংঘনের দায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ঢাকাস্থ মিয়ানমার দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত অং মিন্টকে চতুর্থ দফায় তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বুধবার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে ডেকে আনা হয়। মিয়ানমার দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী তার সঙ্গে কথা বলেন। এসময় রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূলে পরিকল্পিত চেষ্টার অংশ হিসেবে রাখাইন জুড়ে বর্মী সেনারা যে আগ্রাসী অভিযান চালাচ্ছে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
এদিকে, জিরো পয়েন্টে অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গারা যাতে মিয়ানমারে ঢুকতে না পারে সে জন্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমের তুমব্রু এলাকার মিয়ানমার অংশে এক সপ্তাহ ধরে স্থলমাইন বসানো হচ্ছে বলে জানান একাধিক রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাংলাদেশিরা। তুমব্রু খালের তীরে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গা নাগরিক নূর হোসাইন জানান, মঙ্গলবার (৫ই সেপ্টেম্বর) তুমব্রুতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা গুলি চালিয়েছে এবং বহু ঘরে আগুন দিয়েছে। আমরা যাতে ওই পারে ঢুকতে না পারি সেজন্য কয়েকদিন ধরে তারা সীমান্তে মাইন বসাচ্ছে। অনেক মাইন খালী চোখে দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে এখানে দু’দিনে চারটি মাইন বিস্ফোরণ হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৭ই জানুয়ারী নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ৪৯নং পিলারের নো-ম্যান্স ল্যান্ড থেকে ১২টি স্থলমাইন উদ্ধার করেছিল বিজিবি। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ – মিয়ানমার সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে পূর্বপশ্চিমকে নিশ্চিত করেছেন বিজিবির সদর দপ্তর সূত্র।
