সহিংসতার কারণে রাখাইন রাজ্যে থেকে যারা পালিয়ে বাংলাদেশে গেছেন তাদের  নাগরিকত্বের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না  পারলে কাউকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়া হবে না মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উ থং তুন বলেছেন। খবর মিয়ানমার টাইমসের।

১৯৮২ সালের মিয়ানমারের সিটিজেন অ্যাক্ট অনুযায়ী দেশটির ১৩৫ জাতিগোষ্ঠীর তালিকায়  রোহিঙ্গাদের নাম নেই। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার সরকার ‘বাঙালি’ হিসবে অভিহিত করে এবং তারা বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার এসেছে বলে দাবি করে থাকে। তাই তাদের কাছে মিয়ানমার নাগরিকত্বের বৈধ কোনো কাগপত্র নেই। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বৈধ কাগজপত্রহীন প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন উ থং তুন।

গতকাল বুধবার রাখাইন স্টেট কাউন্সেলর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উ থং তুন বলেন, ‘মিয়ানমারে তারা কত বছর ধরে বসবাস করছেন নাগরিকদের অবশ্য তার প্রমাণ দেখাতে হবে। যদি তারা সঠিক কাগজপত্র দেখাতে পারেন তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু মিয়ানমারের নাগরিক প্রমাণিত না হলে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে না।’

রাখাইন রাজ্যের জনগণকে রক্ষা এবং পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য মিয়ানমার সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে তিনি জানান।

গত ২৪ আগস্ট জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের উপদেষ্টা কমিশনের দেয়া সুপারিশ সরকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে বলে সংবাদ সম্মেলন উ থং জানান।

আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি( আরসা) নামে একটি গোষ্ঠী গত ২৫ আগস্ট ভোরে রাখাইনের কয়েকটি পুলিশ চৌকিতে অতর্কিতে হামলা চালায়। এ ঘটনার পর সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত মংডু, রাথেডাং, বোথেডাং এলাকায় অভিযান চালায়। সেনা অভিযানে এ পর্যন্ত চার শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, যার বেশির ভাগই রোহিঙ্গা।

মিয়ানমারে মোট ১১ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস, যারা দীর্ঘদিন ধরে বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার।

রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় পশ্চিমা পর্যবেক্ষকদের অনেকেই ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চির কঠোর সমালোচনা করেছেন। এমনকি অনেকে তার নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেয়ার কথাও বলেছেন। তাদের কথা, সু চি রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন।

(ঢাকাটাইমস/৭সেপ্টেম্বর/এসআই)

Share Now
June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930