ছয়শ কোটি টাকা (ছয় কোটি ইউরো) দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য । বার্লিনের এই সাহায্য জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের সহযোগিতায় সীমান্তের দুই দিকে জরুরি খাদ্য, চিকিৎসা ও মৌলিক চাহিদার জন্য ব্যয় করা হবে।

সোমবার বিকালে বার্লিনে জার্মান সরকারের মুখপাত্র স্টেফান সাইবার্ট এই ঘোষণার কথা জানিয়েছেন। সরকারের জরুরি ত্রাণ তহবিল থেকে এই সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

গত ২৪ আগস্ট কয়েকটি পুলিশ ও সেনা ক্যাম্পে হামলার ঘটনার পর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অভিযানের নামে শত শত রোহিঙ্গাকে হত্যা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করছে দেশটির সেনাবাহিনী ও রাখাইন সন্ত্রাসীরা। তাদের হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা, যে ঢল এখনো অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যে চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়েছেন। শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা মানবেতন জীবন যাপন করছে। তাদের সহায়তার জন্য কুয়েত, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ডসহ অনেক দেশ হাত বাড়িয়েছে। এবার তাদের তালিকায় যোগ হলো জার্মানির নাম।

জার্মান সরকারের মুখপাত্র স্টেফান সাইবার্ট বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক শরণার্থীরা এই মুহূর্তে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রোহিঙ্গাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করার ঘটনাটি ‘মানবতার বিরুদ্ধে আগ্রাসন’বলেও মন্তব্য করেন সাইবার্ট।

জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক ঘোষণায় মিয়ানমার সরকারকে উপদ্রুত রাখাইন রাজ্যে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সাহায্য সংস্থাগুলোকে প্রবেশের অনুমতি দিতে অনুরোধ করেছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সহযোগিতার ঘোষণা দেওয়ার আগে জার্মানির পরিবেশবাদী সবুজ দল সরকারের সমালোচনা করে বলেছে, জার্মান সরকার মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখছেন না।

পরিবেশবাদী সবুজ দলের নেতা ফলকার বেক বলেছেন, মাত্র চার সপ্তাহের মধ্য চার লাখের বেশি শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। প্রয়োজনে এই শরণার্থীদের জার্মানিতে বা ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে আশ্রয় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। পরিবেশবাদী সবুজ দল মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031