জিয়াউর রহমান সংবিধান ও সব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ধ্বংস করেছেন বলে ইসিকে জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আজ বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে উপস্থাপিত দলের লিখিত প্রস্তাবের ‘গণতন্ত্র ও নির্বাচন: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ শীর্ষক সূচনা বক্তব্যে এ কথা উল্লেখ করা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নয় পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন।

এতে বলা হয়, স্বাধীনতাযুদ্ধে পরাজিত অপশক্তি ও তাদের এদেশীয় দোসররা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ রাতের আঁধারে নির্মমভাবে হত্যা করে। স্তব্দ হয়ে যায় বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা। কিছুদিনের মধ্যেই হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের হোতা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও সেনা আইন লঙ্ঘন করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের সংবিধান ও সকল প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দেন। শুরু হয় স্বৈরশাসনের।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘এ স্বৈরশাসক তার অবৈধ ক্ষমতা দখলকে বৈধতা দেওয়ার অভিপ্রায়ে ১৯৭৭ সালের ৩০ মে হ্যাঁ/না ভোটের আয়োজন করেন এবং তার পক্ষে হ্যাঁ ভোট প্রদানে সব আয়োজন সম্পন্ন করেন। “প্রহসনের এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষ যেমন তাদের ভোটাধিকার হারিয়ে ফেলেন, অপরদিকে সব গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়ে যায়। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর‌্যন্ত। জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ক্ষমতা দখলকারী অপর স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনকালের অবসান ঘটে।”

এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিশদ তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ‘১৯৮১-৯১ সাল পর্যন্ত জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার যে সংগ্রাম করে আসছিলেন স্বৈরশাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে তার প্রাথমিক বিজয় হয়। জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সরকার পরিচালনায় রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসনব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রবর্তন ঘটে।’

বৈঠক সূত্র জানায়, গত ১৫ অক্টোবর বিএনপির সঙ্গে সংলাপে জিয়াউর রহমানের গুণগান করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের একজন নেতা ইসিকে উদ্দেশ করে বলেন, “ইতিহাসের স্যাটেলড বিষয় নিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করবেন না।’

বৈঠক থেকে বের হয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক পর্যায়ের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের বলেন, সিইসির বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যার অবকাশ থাকায় বিতর্ক এড়ানোর জন্য কমিশনকে সতর্কতার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ এক নেতা।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031