যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চালানো বর্বর নির্যাতনের জন্য মিয়ানমারের জেনারেলরাই দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে এই অপরাধের জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা তা স্পষ্ট করেননি তিনি। খবর- রয়টার্সের।

বুধবার ওয়াশিংটনে টিলারসন বলেন, রাখাইনে যেসব সহিংসতার খবর আসছে, বিশ্ব তা দেখেও চুপ করে থাকতে পারে না। সেখানে যা ঘটছে সেজন্য আমরা মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বকেই দায়ী করব।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩ জন আইনপ্রণেতা পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে লেখা এক চিঠিতে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুর জন্য সুনির্দিষ্টভাবে দায়ীদের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে কড়াকড়ি আরোপের দাবি জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।

দীর্ঘদিন সামরিক শাসনে থাকা মিয়ানমারের ওপর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ছিল। ২০১৫ সালে নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফেরার সময় যুক্তরাষ্ট্র সেসব কড়াকড়ি তুলে নেয়।

টিলারসনকে লেখা ওই চিঠিতে যারা সই করেছেন, তাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি ও বিরোধী দলে থাকা ডেমোক্রেটিক পার্টি- দুই দলের কংগ্রেস সদস্যরা রয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, রাখাইনে সহিংসতা বন্ধের পদক্ষেপ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না মিয়ানমার সরকার। যারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

টিলারসন বলেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা যদি সত্যি হয়, তাহলে কাউকে না কাউকে এর দায় নিতেই হবে। মিয়ানমারের ভবিষ্যতকে তারা কোন পথে ঠেলে দিতে চায়, তা এখন তাদের সেনা নেতৃত্বের উপরই নির্ভর করছে।

তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন মিয়ানমারকে একটি উদীয়মান গণতন্ত্রের দেশ হিসেবেই দেখে। কিন্তু সেখানে সামরিক-বেসামরিক ক্ষমতা ভাগাভাগির যে মিশ্র সরকার রয়েছে, তার জন্য এই রোহিঙ্গা সঙ্কট একটি অগ্নি পরীক্ষা।

গত ২৫ অগাস্ট থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দমন-পীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তাদের নির্যাতন থেকে প্রাণে বাঁচতে এখন পর্যন্ত অন্তত সাড়ে ৫ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।

এদিকে, রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের দায়ে মিয়ানমারের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের ইউরোপ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

Share Now
July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031