বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের দ্বিপক্ষীয় সমাধান চায়। মিয়ানমার সফরে গিয়ে এমনটাই বলে এসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মিয়ানমার থেকে ফেরার পরদিন গতকাল সচিবালয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন , আমরা তাদের এটা বলেছি, দ্বিপক্ষীয়ভাবে এর সমাধান করা উচিত এবং আমরা সেটাই চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও তাই চান। এটা না করলে তাদের বলেছি যে, আমরা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জায়গায় যাব। কারণ আমাদের ঘাড়ে তো এসে পড়েছে।
রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর আশাবাদ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল বলেন, আমরা মনে করি যে, আমরা হাঁটা শুরু করেছি, লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবো। কোন প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা তো জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কথা বলেছি। সেই গ্রুপ কফি আনান কমিশনের সুপারিশ সামনে রেখে কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দফা সামনে রেখে কাজ করবে। তারা বলেছেন, তারা ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করবেন। মিয়ানমার আন্তর্জাতিক চাপে আছে বলে কি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ডেকে নিয়ে ‘আইওয়াশ’ করেছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখুন, আমি কোনো কিছুই নেগেটিভলি দেখি না। আমি মনে করি- এটা তাদের সমস্যা তারা সমাধান করবে। এটা আমরা বিশ্বাস করি এবং মনে করি। আমরা মনে করি আমাদের এই সমস্যা ওভারকাম করতেই হবে। আমরা সেটাই মনে করি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এরা (রোহিঙ্গা) যদি বেশি দিন থাকে। যে সন্ত্রাস ও জঙ্গিদের আমরা কন্ট্রোলে নিয়ে এসেছি, তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে যেতে পারে। তখন আমাদের কিছু করার থাকবে না। আমরা যে রকম অসুবিধায় পড়বো, তোমরাও (মিয়ানমার) সে রকম অসুবিধায় পড়বে। তারা সবই রাজি হয়েছেন; কিন্তু তারা বলছেন, একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সব ফাইনালাইজড করবে। কামাল বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলেছি, এই দেশে কোনো দুষ্কৃতকারীকে আমরা স্থান দিই না। এক ইঞ্চি জায়গাও ব্যবহার করতে দেই না। তাদের বলেছি, কোনো জঙ্গির তালিকা বা আস্তানা থাকলে আমাদের দাও, আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। তারা দুষ্কৃতকারীদের একটি তালিকা দিয়েছে। তবে শুধু নাম আছে; বাবার নাম, বাড়ি, ঠিকানা কিছুই নেই। সংখ্যা কত- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এই সংখ্যা আমার কাছে নেই। আইজিপি বলেছেন, তিনি একটা (তালিকা) পেয়েছেন। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, তাকে বলেছি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে যে জায়গায় নিয়ে গিয়েছে। আপনিও (সুচি) মিয়ানমারকে সে জায়গায় নিতে পারবেন। বাংলাদেশের মানুষ সেটা বিশ্বাস করে। অং সান সুচি আমাকে বলেন, তোমরা তাদের (রোহিঙ্গা) ফিরিয়ে দেয়ার জন্য উৎসাহিত কর-তারা তো এখন আসতে চায় না। আমি বলেছি, তারা কেন আসতে চায় না? সেটা আপনি নিশ্চয়ই জানেন। তাদের আসার পরিবেশ নেই। তাই তারা আসতে চায় না। আমি ?সুচিকে বলেছি, কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কাজ কর। তোমাদের দেশে শান্তি আসলে আমরাও বাঁচি। তোমরাও এই অশান্তি থেকে রেহাই পাবা। তিনি বলেন, এই সব প্রস্তাব সুচি শুনেছেন। আমরা মনে করি তারা এগুলো পর্যায়ক্রমে করবেন। সুচি নিজেই বলেছেন, তাদের (রোহিঙ্গা) নেয়ার বিষয়ে তার সরকার কাজ করছে।
