চিন্তার রেখা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মুখে । নিজের একটি বেসরকারি বাসস্থানে বসে টেলিভিশনে দেখেছেন রবার্ট মুয়েলার ‘ড্রামা’। কিভাবে বোমার মতো টেলিভিশনগুলোতে তা ছড়িয়ে পড়ছে, কি সব ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে আসছেÑ তা দেখে তিনি বিস্মিত। তাই ক্ষোভ তার মধ্যে টগবগ করছে। এমনটা ইঙ্গিত দিয়েছেন একটি সূত্র। সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে রবার্ট মুুয়েলার তদন্তের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হয়।

 তাতে অভিযুক্ত করে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তার নির্বাচনী প্রচারণা বিষয়ক সাবেক ম্যানেজার পল ম্যানাফোর্টকে। প্রথম দফায় অভিযুক্ত করা হয়েছে তিন জনকে। তারা হলেন পল ম্যানাফোর্ট, রিক গেটস ও জর্জ পাপাডোপুলাসকে। এতদিন বার বারই ট্রাম্প অস্বীকার করছিলেন অভিযোগ। বলছিলেন, তার ও তার নির্বাচনী প্রচারণা টিমের সঙ্গে রাশিয়া কানেকশনের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা ডাহা মিথ্যা কথা। হিলারি ক্লিনটন শিবিরের বানানো কাহিনী। কিন্তু স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলারের তদন্ত বলছে তার উল্টোটা। তিনি সবিস্তারে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। সামনের দিনগুলোতে আরো ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হবে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তখ্ত নড়ে যেতে পারে। তার প্রেসিডেন্সি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মত দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অনেকের আশঙ্কা ক্ষমতাও হারাতে পারেন ট্রাম্প। তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগকে অনেকেই এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির সঙ্গে তুলনা করেছেন। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিতে ক্ষমতা হারান সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান। রবার্ট মুয়েলার যে রিপোর্ট দিয়েছেন তা ট্রাম্পের বক্তব্যের বিরোধিতা করে। অর্থাৎ ট্রাম্পও ‘মিথ্যাচার করেছেন’ বলে ধরে নেয়া যায় বলে বলছেন অনেকে। এ অবস্থায় তার ওপর আস্থাহীনতা থেকে অনেক নাটকীয় ঘটনা ঘটে যাওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় অভিযোগ ওঠে, ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করতে উঠেপড়ে লাগেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। ডেমোক্রেট শিবিরের ইমেইল হ্যাক করে রাশিয়ানরা। এ কথা স্বীকার করে নেন পুতিন। তবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কোনো হ্যাকার ছিল না তারা। তারা রাশিয়ার কোনো হ্যাকার গ্রুপ হতে পারে বলে তিনি মত দিয়েছিলেন। কিন্তু তদন্তে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, ওই হ্যাকাররা ছিল রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট। ফলে দায়টা যায় পুতিনের কাঁধে। বলা হয়, হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করে ট্রাম্পকে ক্ষমতায় আনতে তৎপর হয়ে রাশিয়া এসব কাজ করেছে। এখন রবার্ট মুয়েলারের তদন্তেও তার স্বপক্ষে প্রমাণ মিলছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে যান হিলারি। বিজয়ী হন ট্রাম্প। মুখে হাত পড়ে বিশ্ব নেতাদের। মার্কিনীদের। কি হয়ে গেল কেউ বুঝতে পারলেন না! এমন এক নির্বাচনে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন কি বলবেন সে দিকে তাকিয়ে সবাই। যদিও তিনি এরই মধ্যে আক্রমণ করেছেন টুইটারে। তিনি লিখেছেন, দুঃখিত। এসব ঘটনা কয়েক বছর আগের। পল ম্যানাফোর্ট ট্রাম্প প্রচারণা শিবিরে যুক্ত হওয়ার অনেক আগের। কিন্তু ক্রকড হিলারি ও ডেমোক্রেটদের দিকে কেন ফোকাস করা হচ্ছে না??? অর্থাৎ তিনি বল গড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন ডেমোক্রেটদের শিবিরে। তিনি বলতে চেষ্টা করছেনÑ রিপাবলিকানদের নিয়ে এত ঘাঁটাঘাটি কেন! কেন হিলারি ক্লিনটনের দিকে দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে নানা বিশ্লেষণ যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে। অব্যাহতভাবে চলছে টকশো। তাতে ট্রাম্প টিম, ট্রাম্পকে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ করছেন আলোচিত সব সাংবাদিক, প্রাজ্ঞ জনেরা। সিএনএন নিয়মিত সম্প্রচার থেকে সরে এসে স্থির হয়েছে ট্রাম্প ও রবার্ট মুয়েলার ইস্যুতে। এরই এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাশিয়া তদন্ত নিয়ে নাটকীয়তা চরমে যুক্তরাষ্ট্রে। নিজের ক্ষমতার ওপর ছায়াপাত পড়েছে ট্রাম্পের। তিনি এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ। স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলারের বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেয়া যায় তা নির্ধারণে তাই তিনি জরুরি ভিত্তিতে তার উপদেষ্টাদের কাছ থেকে পরামর্শ চাইছেন। হোয়াইট হাউজের ঘনিষ্ঠ এক রিপাবলিকান সূত্র বলেছেন, আদালতের অভিযোগ বিশাল টেলিভিশন স্ক্রিনে দেখেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার একটি বেসরকারি বাসভবনে ওই টেলিভিশনটি স্থাপন করা হয়েছে। সেখানেই তিনি বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে দেখেছেন খবর।
Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031