কমপক্ষে আট জনকে প্যারিস বা জার্মানির মতো এবার সাধারণ মানুষের ওপর ট্রাক উঠিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হত্যা করা হয়েছে । সাইকেল চালানোর জন্য নির্ধারিত পথে সাইকেল আরোহীদের ওপর একটি ভাড়া করা ট্রাক উঠিয়ে দেয় উজবেকিস্তানের সন্দেহভাজন এক সন্ত্রাসী। একে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। হামলাকারী দাবি করেছে সে আইএসের হয়ে হামলা করেছে। একটি চিরকুটে সে এ দাবি করেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে তার পিকআপ ভ্যান চালাতে থাকে সাইকেল চালানোর জন্য নির্ধারিত রাস্তায়।
সেই রাস্তায় তখন সাইকেলে আরোহীরা ছিলেন। ছিলেন ফুটপাথে হাঁটা সাধারণ মানুষ। হামলাকারী তাদের ওপর ভ্যান উঠিয়ে দেয়। এরপর তার ভ্যান গিয়ে আঘাত করে একটি স্কুলবাসকে। এতে কমপক্ষে ২টি শিশু ও বয়স্ক ২ জন আহত হয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে ওই ভ্যানের চালক লাফিয়ে নেমে পড়ে। এ সময় তার সঙ্গে অস্ত্র দেখা যায়। পরে পুলিশ ওই স্থান থেকে তা উদ্ধার করেছে। পুলিশ বলছে, হোম ডিপোট হার্ডওয়্যার চেইন থেকে সে ওই ভ্যানটি ভাড়া নিয়েছিল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্ক সিটির হার্ডসন নদীর পাড়ে সাইকেল চালানোর জন্য নির্ধারিত পথে এ ঘটনা ঘটে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার। হামলায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির বয়স ২৯ বছর। ঘটনার পর পরই পুলিশ তার পেটে গুলি করে। একটি স্কুলবাসের সঙ্গে ওই হামলাকারী তার ভ্যানের ধাক্কা লাগানোর পর নিজের ভ্যান ফেলে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় তার পেটে গুলি করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিএনএন ও দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে বলেছে, হামলায় ব্যবহৃত ট্রাকের ভেতর একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। তাতে সে লিখেছে, আইএসের নামে সে ওই হামলা করেছে। এতে নিহত ৫ জন আর্জেন্টিনার নাগরিক। তারা তাদের হাইস্কুল গ্রাজুয়েশনের ৩০তম বার্ষিকী উদযাপন করতে দলবেঁধে নিউ ইয়র্ক এসেছিলেন। এ গ্রুপের আহত একজনকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। উল্লেখ্য, এ ঘটনাটি ঘটেছে সেই বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের কাছে, যেখানে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর বিমান ছিনতাই করে হামলা চালিয়েছিল। তাতে কমপক্ষে ২৬০০ মানুষ নিহত হন। সেই হামলার পর এটাই নিউ ইয়র্কে কোনো বড় সন্ত্রাসী হামলা। গত ১৫ মাসে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেভাবে গাড়ি হামলা চালানো হয়েছে নিউ ইয়র্কের হামলাও সেই একই রকম। নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এটা ছিল একটি সন্ত্রাসী হামলা। এটা কাপুরুষোচিত সন্ত্রাস। নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে এ হামলা চালানো হয়েছে। যেসব মানুষ তাদের জীবিকার সন্ধানে যাচ্ছিলেন তাদেরকে টার্গেট করা হয়েছে। ওদিকে এ ঘটনাকে দৃশ্যত সন্ত্রাসী হামলা বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন প্রতিনিধি। গভর্নর অ্যানড্রু কুমো বলেছেন, সন্দেহ করা হচ্ছে এ হামলা চালিয়েছে হামলাকারী একা। এখন পর্যন্ত হামলায় যে বিপুল পরিকল্পনা ছিল এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। এ সময়ে তার কাছে সিএনএনের সাংবাদিক জানতে চান, হামলাকারীকে কি কর্তৃপক্ষ আগে থেকে জানতো কিনা। জবাবে গভর্নর বলেন, এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট জবাব এত সংক্ষিপ্ত সময়ে দেয়া কঠিন। ওদিকে হামলাকারীর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ কমিশনার জেমস ও’নেইল। তবে তদন্তের সঙ্গে জড়িত একটি সূত্র বলেছেন, ওই ভ্যানের চালকের নাম সাইফুল্লাহ সাইপোভ। সিএনএন ও এনবিসি নিউজ বলছে, সে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে ২০১০ সালে। এবিসি নিউজ বলছে, সাইফুল্লাহ বসবাস করতো ফ্লোরিডার টাম্পায়। পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হচ্ছে, সে তার ভ্যানের ভেতর থেকে লাফ দিয়ে নামার সময় ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চিৎকার করে। এ ঘটনার তদন্তে এফবিআই, নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ও অন্য এজেন্সিগুলোর সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে জয়েন্ট টেরোরিজম টাস্কফোর্স।
