ন্যায়বিচার ছাড়া কোনও কিছুই চাই না।’ নিজের বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির মামলায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের একজন সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে প্রাপ্ত অধিকার পেলেই খুশি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে তৃতীয় দিনের মত আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্যে দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

আদালতের কাছে প্রশ্ন রেখে খালেদা বলেন, ‘আজ আমার প্রতি যে আচরণ করা হচ্ছে তা আমার অবস্থা ও ভূমিকার সঙ্গে যায় কিনা? এর মাধ্যমে বৈষম্য করা হচ্ছে কিনা সেটা আদালতের বিবেচনার বিষয় বলে মনে করি।’

খালেদার বক্তব্য শেষ না হওয়ায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আগামী ৯ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন আদালত।

অসৎ উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে ক্ষমতাসীনরা একটি নীল নকশা প্রণয়ন করেছে বলেও অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া।

আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে সে বিষয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন, মতামত ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে। সরকারের উচ্চমহলের কার্যকলাপ এবং বক্তব্য থেকেও তা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। আর এসব কারণে দেশবাসীর মনে ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোতে ন্যায়বিচার হবে না।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি শুধু বলতে চাই, একই ধরনের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে আরেকজন নেত্রী যেসব সুবিধা ভোগ করেছেন আমি আদালতের কাছে তেমন কোনও সুবিধা দাবি করিনি।’

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশে কত গুরুত্বপর্ণ মামলা বছরের পর বছর ধরে চলছে। কতগুলো মামলা সচল আছে? কিন্তু আমার মামলাগুলো পেয়েছে রকেটের গতি। যেন কেউ পেছন থেকে তাড়া করছে। শীঘ্রই শেষ করো। তড়িঘড়ি করে একটা রায় দিয়ে দাও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। কেন, কোন উদ্দেশ্যে এবং কিসের জন্য এত তাড়াহুড়া? এ তাড়াহুড়ায় কি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে? নাকি ন্যায়বিচারের কবর হবে?’

খালেদা বলেন, ‘আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। আশা করি সব প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার করা হবে। ন্যায়বিচারের কথা জোর দিয়ে এত বারবার বলছি। এর কারণ আছে। কারণ, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কিনা সে ব্যাপারে দেশবাসীর ঘোরতর সন্দেহ আছে।’

ক্ষমতাসীনদের দেওয়া বক্তব্য, প্রচারণা ও আদালতে বিচারাধীন মামলার বিষয়ে করা মন্তব্যকে আদালতের গোচরীভূত মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আপনি জানেন আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারকাজ চলার সময় প্রধানমন্ত্রী থেকে মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য এবং শাসকদলের কোনও কোনও নেতা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন। অভিযুক্ত করে বিরূপ প্রচারণা চালাচ্ছেন। যেন তারা মামলার রায় কী হবে তা আগাম জানেন। অথবা তাদের বক্তব্যে আদালতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। তদন্ত ও বিচারাধীন বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের এই অপপ্রচার ন্যায়বিচারকেই শুধু প্রভাবিত করতে পারে না, বরং তা আদালত অবমাননার শামিল। এখানেই শেষ নয়। আমার সাজা হবে এবং কাশিমপুর কারাগারে রাখা হবে বলেও কোনও কোনও মন্ত্রী প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন। কোনও কোনও মন্ত্রী ও শাসক দলের নেতা প্রায় নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন আমাকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে বিদায় করে দেওয়া হবে। এ পরিস্থিতিতেই এসব কথা বলছি।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031