ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ৮ম গ্লোবাল সোশ্যাল বিজনেস সামিট শুরু হয়েছে। প্যারিসের সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এ উপলক্ষে এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্যারিসের মেয়র আন্নে হিদালগো, ওয়ার্ল্ড অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জোয়েল বাওজু, লুক্সেমবার্গের গ্রান্ড ডাচেস ও স্পেনের রানী সোফিয়া। ৫০টি দেশের প্রায় সাত শতাধিক প্রতিনিধি এ সামিটে অংশ নিচ্ছেন। চার লক্ষ্য সামনে রেখে এ সম্মেলন চলছে। সেগুলো হচ্ছে- খাদ্য ও তার মান, প্লাস্টিক দূষণ, শরণার্থী ও একাত্মতা এবং ২০২৪ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য অলিম্পিক গেমস।

 সম্মেলনে শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে ফ্রান্সের অনারারি সিটিজেনশিপ সম্মাননা তুলে দেন প্যারিসের মেয়র আন্নে হিদালগো। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৪ সালে ফ্রান্সে অলিম্পিকের মূল থিম  ড. ইউনূসের ‘থ্রি জিরো’। সম্মেলনে ড. ইউনূস তার বক্তৃতায় রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরেন। সামিটের আগে প্যারিসে ইউনূস সেন্টারের কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়। এ সময় প্যারিসের ডেপুটি মেয়র অ্যান্থোনিও বলেন, প্যারিসে ড. ইউনূসকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা গর্বিত। এটি প্যারিসের জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত। এটি সামাজিক ব্যবসার প্রসারে একটি সম্মিলিত উদ্যোগ। সিটি অব প্যারিসে ইউনূস সেন্টারের যাত্রা শুরু করতে  পেরে প্যারিস সত্যিই গর্ব অনুভব করছে। সামাজিক ব্যবসায়ের পুরোধা ড. ইউনূসের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরে আমরা আনন্দিত। এ সময় সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মোর্তোজাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, ইউনূস সেন্টারকে একটি দেড়শ বছরের পুরনো ভবন দেয়া হয়েছে। যা ইউনূস সেন্টারের হেডকোয়ার্টার হবে। মেয়র ইতিমধ্যেই সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি প্যারিসকে সারা বিশ্বের সোশ্যাল বিজনেসের রাজধানী হিসেবে দেখতে চান। তিনি এখান থেকে সোশ্যাল বিজনেসকে প্রমোট করতে চান। ড. ইউনূস বলেন, আজকে আমাদের আনন্দের বিষয় যে, বিল্ডিংটা নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। আমরা ঘুরে দেখেছি। প্রত্যেকটি জিনিস নতুন করে বানিয়েছে। কিন্তু রিসাইকেলড। পুরনো জিনিসকে আবার সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে বানিয়েছে। পুরো বিল্ডিং অক্ষত রেখেছে। বিল্ডিংয়ের কোনো অংশের ক্ষতি করেনি এবং বিল্ডিং আরো সুন্দর করে তৈরি করে দিয়েছে। আর এখানে যত ফার্নিচার ছিল সেগুলো নতুন করে তৈরি করেছে। বাইরে থেকে যতগুলো পুরনো জিনিস ছিল যেগুলো অব্যবহৃত ফেলে দেয়া হয়েছে সেগুলো। যে কার্পেটগুলো তৈরি করা হয়েছে সেগুলো পানির বোতল থেকে। চেয়ার, টেবিল, দরজা, জানালা ও সেলফগুলো তৈরি করেছে পুরনো কাগজ দিয়ে। সবকিছু পুরনো কাগজের। এখানে যে বাতিগুলো দেখা যাচ্ছে এগুলো হচ্ছে ফেলে দেয়া পুরনো কাগজের। সিলিং বানানো হয়েছে সেভাবেই।
ইউরোপের জার্মানির পরে প্যারিসের মতো জায়গায় অফিস ইউনূস সেন্টাররের কাজকে কতটা গতিশীল করবে-এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, আমাদের মূল অফিসটা তো বাংলাদেশে। উনি (মেয়র) বলেছেন আমরা এরকম একটি সেন্টার বাংলাদেশে করতে চাই। তার আমন্ত্রণে, তার আগ্রহে আমরা এখানে অফিস করেছি। তারা বিল্ডিংটা দিয়েছে। ওপেনিংয়ের সময় তারা আমাকে সামনে রেখে বলেছে, এটা আমরা আপনাকে দিলাম। এটা সোশ্যাল বিজনেসের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে দেখতে চাই। এখানে সারা পৃথিবীর সামাজিক ব্যবসার রাজধানী করতে চাই এবং সে মর্মেই তিনি চলেছেন এ পর্যন্ত। সোশ্যাল বিজনেস সামিটের মূল আয়োজনে বিষয়টা নতুন করে ঘোষণা দেয়া হবে। এর সঙ্গে অলিম্পিকের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, অলিম্পিকটা হলো বরাবরই আনন্দের বিষয়, বিনোদনের বিষয় এবং ব্যবসার বিষয়। এখানে কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা হয় অলিম্পিককে ঘিরে। আমরা একটা থিম দিয়েছি। এই জিনিসটাকে একটা সোশ্যাল ওরিয়েন্টেশনও দেয়া যায়। এখানে অনেক জিনিস আছে যেগুলোকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা হয়। উনি এটাতে চমৎকৃত হয়েছিলেন এবং এ বক্তৃতা শুনে উনি আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমাদের সামনে যে সুযোগ আছে ২০২৪ সালে যে অলিম্পিক হবে সেটা প্যারিসে হবে। ১০০ বছর পরে প্যারিসে অলিম্পিক হতে যাচ্ছে। সারাদেশ উৎসাহে অনুপ্রাণিত। বাংলাদেশের মানুষ জানে প্যারিসে অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে আপনার অনেক বক্তব্য, অনেক ধারণা, বুদ্ধি পরামর্শ গ্রহণ করেছে- এ সম্পর্কে তিনি বলেন, পুরো পরিকল্পনার মধ্যে আমার বক্তব্যগুলো তারা ইনক্লুড করেছে। সোশ্যাল বিজনেসের যত কথা আমার বক্তৃতায় আছে সেগুলো তাদের অলিম্পিক কমিটিকে যে প্রস্তাব দিয়েছে সেই প্রস্তাবের একটা মূল অংশ ছিল। সুতরাং তারা বলছে এটা আমার মূল অংশ কাজেই আপনাকে আমাদের সঙ্গে সবসময় থাকতে হবে যাতে আমরা পরিপূরণ করতে পারি। সেজন্য প্রস্তুতি চলছে আমরা কিভাবে সম্পৃক্ত হব। এই আইডিয়া কাজে লাগাব সেটার জন্য উনি বিভিন্ন রকমের কমিটি করছেন আমাদের নিয়ে। তারা বলেছেন, এখানে অলিম্পিক সম্পর্কে যত বিষয় হবে সবকিছুতেই আমাদের সম্পৃক্ত থাকতে হবে। সামাজিক ব্যবসা সম্পর্কিত ইউনূসের তত্ত্ব ও বই থ্রি জিরো সম্পর্কে প্যারিসে আলোচনার বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন, সামাজিক ব্যবসার যে সামিট হবে সেখানে থ্রি জিরো সম্পর্কে আলোচনা হবে। জিরো  প্রোভার্টি, জিরো আনএমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড জিরো নেট কার্বন এমিশন। এই তিন শূন্যকে কেন্দ্র করে আমাদের কর্মকাণ্ড। মেয়র বলেছেন যে, অলিম্পিকটা হবে তার থিম হবে থ্রি জিরো। কাজেই একটা বিরাট বিষয়। থ্রি জিরো সারা পৃথিবীতে সাড়া ফেলছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা যতটুকু দেখছি থ্রি জিরো সারা পৃথিবীতে সাড়া ফেলেছে। তবে আমরা জানি না কতটুকু সাড়া পাওয়া যাবে।
Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031