মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি বলেছেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দেয়া বিবৃতির প্রেক্ষিতে, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ যে সমস্যা মোকাবিলা করছে তার একমাত্র সমাধান এই দু’দেশের হাতে। এ বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। তিনি যা বলতে চেয়েছেন তা হলো, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে হবে শুধু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে। এর ভিতরে অন্য কারো প্রবেশাধিকার নেই। কারণ, তিনি সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় দেখছেন দু’দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে। তার ভাষায়- নিরাপত্তা পরিষদের এই অবস্থান বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের আলোচনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে আরো বলা হয়, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সোমবারের বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সরকার ও সংগঠনের সঙ্গে একত্রিত হয়ে কাজ করার ওপর জোর দেয়া হয়। জোরালো আহ্বান জানানো হয় সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের নৃশংসতা অবিলম্বে বন্ধের জন্য। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশ থেকে স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরতে চান তাদের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও মর্যাদাকর পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। ওই বিবৃতিতে রাখাইনে ভয়াবহভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মিয়ানমারের নেত্রী, স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি। তিনি বলেন, এ সমস্যা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকেই সমাধান করতে হবে। এ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তবে নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্সিয়াল বিবৃতি দু’দেশের মধ্যে চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এ দু’টি দেশের মধ্যে সমঝোতা প্রক্রিয়া মসৃণ ও প্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে চলেছে। উল্লেখ্য, অং সান সুচি সরকারের মেয়াদ এখনও দু’বছর পুরো হয়নি। এ সময়ে কমপক্ষে দু’দফা রোহিঙ্গা ইস্যুতে সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে মিয়ানমারে। সেখানকার সঙ্কটের কারণে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। কিন্তু এবার ২৫শে আগস্টের ঘটনার পর যেভাবে নৃশংসতা ছড়িয়ে পড়ে তাতে কমপক্ষে ৬ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আলোচনায় আসতে বাধ্য হয়েছে মিয়ানমার। এ নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আগামী ১৬ ও ১৭ই নভেম্বর মিয়ানমার সফরে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে। তবে এর একদিন আগে অর্থাৎ ১৫ই নভেম্বর মিয়ানমার সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে মিয়ানমারের ওপর সামরিক নিষেধাজ্ঞার বিল এনেছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি সেখানে সফর করবেন।
মিয়ানমারের ৪ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সহায়তা চায় ঢাকা
কূটনৈতিক রিপোর্টার জানান, রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে এমন ৪ দেশের সমর্থন ও সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ চার প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত, চীন, থাইল্যান্ড ও লাওসের দূতের সঙ্গে এক বৈঠকে এই সহায়তা চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়- নিজ মাতৃভূমি থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে সৃষ্ট সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশের উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সম্পৃক্ততার বিস্তারিত দূতদের অবহিত করেছেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি ৫ই নভেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দেয়া বিবৃতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সংকটের টেকসই সমাধানে দেশগুলোর সমর্থন ও সহায়তা কামনা করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ নিজ বসতভিটায় ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকা-ইয়াংগুন দ্বিপক্ষীয় আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন। এ পর্যায়ে মন্ত্রী দূতদের জানান, আগামী ২০-২১ শে নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপি’ডতে অনুষ্ঠেয় আসেম সম্মেলনের আগে ১৬-১৭ই নভেম্বর দ্বিপক্ষীয় সফরে মিয়ানমার সরকার তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। কিন্তু ওই সময়ে চীন, জাপান, জার্মানী ও সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা বাংলাদেশে আসছেন। ফলে তিনি ১৬ ও ১৭ নভেম্বর মিয়ানমার সফরে যেতে পারছেন না। তবে রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ ভূমে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা (দরকষাকষি) এবং দ্বিপক্ষীয় অ্যারেইন্জম্যান্ট বা ব্যবস্থা চূড়ান্ত করতে আসন্ন আসেম সম্মেলনের পর ২২ ও ২৩শে নভেম্বর তার মিয়ানমার থাকার ইচ্ছা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনের বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপিসহ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্র বলছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়া মিয়ানমারের প্রতিবেশী ৪ দেশের দূত রোহিঙ্গা বোঝা লাঘবে বিশেষ করে ১০ লাখের বেশি মিয়ানমার নাগরিকের অস্থায়ী আশ্রয় গ্রহণে বাংলাদেশের চলমান সংকটের বিভিন্ন বিষয়ে জানার চেষ্টা করেছেন। তারা বাংলাদেশের অবস্থানের বিষয়টি তাদের নিজ নিজ দেশের সরকারকে জানাবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন। তবে তাদের তরফে এই ইস্যুতে কি সহায়তা দেয়া হবে- তা স্পষ্ট করেননি। বৈঠকে ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াং, থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত পানপিমন সুয়ানাপোংসে এবং লাউসের অনাবাসী দূত সুথাম সাকুননিনহম অংশ নেন। উল্লেখ্য, ঢাকায় লাউসের আবাসিক মিশন নেই। দিল্লিতে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত সুথাম সাকুননিনহম অনাবাসী দূত হিসেবে বাংলাদেশ দেখভাল করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় রয়েছেন।
চীন, জাপান, জার্মানি, কানাডা ও সুইডেনের মন্ত্রী ও মার্কিন সিনেট কমিটির সফর চূড়ান্ত: এদিকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে আলোচনায় ঢাকা আসছেন চীন, জাপান, জার্মানি ও সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সফর প্রায় চূড়ান্ত জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেছেন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল ও সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগট ওয়ালস্টার ১৮ই নভেম্বর এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো ১৯শে নভেম্বর ঢাকায় পৌঁছাবেন। এখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের বৈঠক হবে। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়েও সরকারের সঙ্গে তারা আলোচনা করবেন। ঢাকা সফর শেষে ওই ৪ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার যাবেন। মিয়ানমারের রাজধানী নেপি’ডতে আগামী ২০ ও ২১শে নভেম্বর এশিয়া ইউরোপ মিটিং-আসেম পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে অংশ নেবেন তারা। ওই সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীও যোগ দেবেন। রাখাইন সংকটে বৈশ্বিক চাপে থাকা মিয়ানমারে অনুষ্ঠেয় এবারের আসেম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুই মুখ্য আলোচ্য হতে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে নেপিড সম্মেলনের আগে চীন, জাপান, জার্মানিসহ এশিয়া-ইউরোপে গুরুত্বপূর্ণ ৪ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
ওদিকে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে কানাডার উন্নয়ন মন্ত্রী এবং মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির একটি প্রতিনিধি দলও বাংলাদেশ সফরে আসছে। কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী মারি ক্লদ বিবুর বাংলাদেশ সফর নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ২১শে নভেম্বর তার বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। এদিকে মন্ত্রণালয়ের আমেরিকাস অনুবিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গতকাল সন্ধ্যায় মানবজমিনকে বলেন, মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির একটি প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশ সফরে আসছে। আগামী ১৮ই নভেম্বর বা তার কাছাকাছি সময়ে সফরটি হতে হবে বলে বার্তা পেয়েছে সেগুনবাগিচা। তবে প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা এবং দলের কোন কোন সিনেটর থাকছেন সেটি এখনই জানাতে চায় না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকাস্থ আমেরিকান দূতাবাস। সূত্র মতে, মার্কিন প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা সংকটের মাঠ পর্যায়ের বাস্তবচিত্র (গ্রাউন্ড রিয়েলিটি) সরজমিনে দেখতে কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্প পরিদর্শন করবে। সেখানে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মুখেই তাদের ওপর চালানো বর্বরতার কথা শুনবেন তারা। ঢাকায় ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। উল্লেখ্য, গত ২রা নভেম্বর মার্কিন সিনেটে রাখাইন সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। এ নিয়ে আরো আলোচনা হবে। ওই প্রস্তাব ও আলোচনার প্রেক্ষাপটে সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্যদের প্রস্তাবিত ঢাকা সফরের বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করছেন দেশীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা।
মিয়ানমারের ৪ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সহায়তা চায় ঢাকা
কূটনৈতিক রিপোর্টার জানান, রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে এমন ৪ দেশের সমর্থন ও সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ চার প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত, চীন, থাইল্যান্ড ও লাওসের দূতের সঙ্গে এক বৈঠকে এই সহায়তা চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়- নিজ মাতৃভূমি থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে সৃষ্ট সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশের উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সম্পৃক্ততার বিস্তারিত দূতদের অবহিত করেছেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি ৫ই নভেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দেয়া বিবৃতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সংকটের টেকসই সমাধানে দেশগুলোর সমর্থন ও সহায়তা কামনা করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ নিজ বসতভিটায় ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকা-ইয়াংগুন দ্বিপক্ষীয় আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন। এ পর্যায়ে মন্ত্রী দূতদের জানান, আগামী ২০-২১ শে নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপি’ডতে অনুষ্ঠেয় আসেম সম্মেলনের আগে ১৬-১৭ই নভেম্বর দ্বিপক্ষীয় সফরে মিয়ানমার সরকার তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। কিন্তু ওই সময়ে চীন, জাপান, জার্মানী ও সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা বাংলাদেশে আসছেন। ফলে তিনি ১৬ ও ১৭ নভেম্বর মিয়ানমার সফরে যেতে পারছেন না। তবে রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ ভূমে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা (দরকষাকষি) এবং দ্বিপক্ষীয় অ্যারেইন্জম্যান্ট বা ব্যবস্থা চূড়ান্ত করতে আসন্ন আসেম সম্মেলনের পর ২২ ও ২৩শে নভেম্বর তার মিয়ানমার থাকার ইচ্ছা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনের বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপিসহ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্র বলছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়া মিয়ানমারের প্রতিবেশী ৪ দেশের দূত রোহিঙ্গা বোঝা লাঘবে বিশেষ করে ১০ লাখের বেশি মিয়ানমার নাগরিকের অস্থায়ী আশ্রয় গ্রহণে বাংলাদেশের চলমান সংকটের বিভিন্ন বিষয়ে জানার চেষ্টা করেছেন। তারা বাংলাদেশের অবস্থানের বিষয়টি তাদের নিজ নিজ দেশের সরকারকে জানাবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন। তবে তাদের তরফে এই ইস্যুতে কি সহায়তা দেয়া হবে- তা স্পষ্ট করেননি। বৈঠকে ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াং, থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত পানপিমন সুয়ানাপোংসে এবং লাউসের অনাবাসী দূত সুথাম সাকুননিনহম অংশ নেন। উল্লেখ্য, ঢাকায় লাউসের আবাসিক মিশন নেই। দিল্লিতে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত সুথাম সাকুননিনহম অনাবাসী দূত হিসেবে বাংলাদেশ দেখভাল করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় রয়েছেন।
চীন, জাপান, জার্মানি, কানাডা ও সুইডেনের মন্ত্রী ও মার্কিন সিনেট কমিটির সফর চূড়ান্ত: এদিকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে আলোচনায় ঢাকা আসছেন চীন, জাপান, জার্মানি ও সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সফর প্রায় চূড়ান্ত জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেছেন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল ও সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগট ওয়ালস্টার ১৮ই নভেম্বর এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো ১৯শে নভেম্বর ঢাকায় পৌঁছাবেন। এখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের বৈঠক হবে। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়েও সরকারের সঙ্গে তারা আলোচনা করবেন। ঢাকা সফর শেষে ওই ৪ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার যাবেন। মিয়ানমারের রাজধানী নেপি’ডতে আগামী ২০ ও ২১শে নভেম্বর এশিয়া ইউরোপ মিটিং-আসেম পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে অংশ নেবেন তারা। ওই সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীও যোগ দেবেন। রাখাইন সংকটে বৈশ্বিক চাপে থাকা মিয়ানমারে অনুষ্ঠেয় এবারের আসেম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুই মুখ্য আলোচ্য হতে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে নেপিড সম্মেলনের আগে চীন, জাপান, জার্মানিসহ এশিয়া-ইউরোপে গুরুত্বপূর্ণ ৪ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
ওদিকে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে কানাডার উন্নয়ন মন্ত্রী এবং মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির একটি প্রতিনিধি দলও বাংলাদেশ সফরে আসছে। কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী মারি ক্লদ বিবুর বাংলাদেশ সফর নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ২১শে নভেম্বর তার বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। এদিকে মন্ত্রণালয়ের আমেরিকাস অনুবিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গতকাল সন্ধ্যায় মানবজমিনকে বলেন, মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির একটি প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশ সফরে আসছে। আগামী ১৮ই নভেম্বর বা তার কাছাকাছি সময়ে সফরটি হতে হবে বলে বার্তা পেয়েছে সেগুনবাগিচা। তবে প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা এবং দলের কোন কোন সিনেটর থাকছেন সেটি এখনই জানাতে চায় না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকাস্থ আমেরিকান দূতাবাস। সূত্র মতে, মার্কিন প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা সংকটের মাঠ পর্যায়ের বাস্তবচিত্র (গ্রাউন্ড রিয়েলিটি) সরজমিনে দেখতে কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্প পরিদর্শন করবে। সেখানে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মুখেই তাদের ওপর চালানো বর্বরতার কথা শুনবেন তারা। ঢাকায় ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। উল্লেখ্য, গত ২রা নভেম্বর মার্কিন সিনেটে রাখাইন সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। এ নিয়ে আরো আলোচনা হবে। ওই প্রস্তাব ও আলোচনার প্রেক্ষাপটে সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্যদের প্রস্তাবিত ঢাকা সফরের বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করছেন দেশীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা।
