নিজেদের শহরেই আঘান হেনেছে উত্তর কোরিয়ার তৈরি একটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দুর্ঘটনার কবলে পড়ে । মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, উৎক্ষেপণের মাঝপথে যান্ত্রিক ত্রুটির ফলে বিপত্তি ঘটায় হোয়াসং-১২ ক্ষেপণাস্ত্রটি।

দীর্ঘ দিন গোপন রাখলেও সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের নজরে এসেছে কিম জং উনের পথভোলা ক্ষেপণাস্ত্র(আইআরবিএম)-এর কীর্তি।

জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং-এর ৯০ মাইল উত্তরে টকচন শহরে আছড়ে পড়ে ওই ক্ষেপণাস্ত্র। উপগ্রহ চিত্র বিচার করে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিল্প অথবা কৃষি কমপ্লেক্সের একাধিক ভবন। তবে তার ফলে দুই লাখ বাসিন্দার শহর টকচনে কোনও গণহত্যা ঘটেনি বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।

জানা গিয়েছে, পুকচ্যাং এয়ারফিল্ড থেকে রওনা হয়ে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৪৩ মাইল ওপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব দিক নিশানা করে ২৪ মাইল দূরের গন্তব্যে উড়ে যায় ক্ষেপণাস্ত্রটি। কিন্তু ওড়া শুরু করার মিনিটখানেকের মধ্যে তার প্রথম ইঞ্জিনটি বিকল হয়। তরল জ্বালানি সংবলিত ক্ষেপণাস্ত্রটি এর পরে দিক বদল করে টকচন শহরের শিল্প বা কৃষি কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। গুগল আর্থ-এর উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, বিস্ফোরণের অভিঘাতে একটি বহুতল নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে এবং একটি গ্রিন হাউসের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নতুন বছরের গোড়ায় আবার একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার তোড়জোড় করছে উত্তর কোরিয়া। কিন্তু কোনও আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই এই ধরনের পরীক্ষার আয়োজন হওয়ার কারণে বিপদের আশঙ্কা তীব্রতর হয়। কিম জং উনের নিত্যনতুন অস্ত্র পরীক্ষার জেরে প্রমোদ গুণতে শুরু করেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র জাপান।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে কিমের নিশানায় বেশ কয়েকবার পড়তে হয়েছে দ্বীপরাষ্ট্রকে।

পিয়ংইয়ং-এর আগ্রাসী মনোভাবের কড়া সমালোচনা করে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও বেশি মারাত্মক পরিস্থিতির মুখোমুখি তার দেশ। বিষয়টি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে উত্তর কোরিয়াকে চাপে রাখার জন্য তিনি আবেদন জানিয়েছেন।

আবার নতুন বছরের গোড়াতেই হুমকি আর পাল্টা-হুমকির পরিচিত লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন। তার জল কত দূর গড়ায়, তা নিয়েই আশঙ্কার প্রহর গুণছে বিশ্ব।

সূত্র: এই সময়

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031