ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে এতদিন দায়িত্ব পালন করে যাওয়া আবদুল ওয়াহহাব মিয়া আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতার তালিকায় দ্বিতীয় নম্বরে থাকা সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি করার দিন পদত্যাগ করেছেন । তিনিই আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি ছিলেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আবদুল ওয়াহহাব মিয়ার পদত্যাগপত্র নিয়ে তার ব্যক্তিগত সহকারী বঙ্গভবনে গেছেন। তবে কী কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন সেটা জানা যায়নি।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আজকে ছুটির দিন। আমি বাসায়। আমার কাছে কোনো পদত্যাগপত্র আসেনি। তবে দিলে গেটে দিয়ে যেতে পারে।’

এর আগে দুপুরে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এরই মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। তিনি শনিবার শপথ নেবেন।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ছুটিতে যাওয়ার পর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ওয়াহহাব মিয়া। ১০ নভেম্বর সিনহা সিঙ্গাপুর থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেয়া আড়াই মাসেরও বেশি সময় পর আজ শুক্রবার প্রধান বিচারপতি হিসেবে মাহমুদ হোসেনকে বেঝে নেন রাষ্ট্রপতি।

ওয়াহহাব মিয়া হাইকোর্ট বিভাগে অস্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন মাহমুদ হোসেনের দুই বছর আগে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৯৯ সালের ২৪ অক্টোবর সাহাবুদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রপতি থাকাকালে উচ্চ আদালতে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি।

অন্যদিকে সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নিয়োগ পান তারও দেড় বছর পর, ২০০১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। তখনও ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ, রাষ্ট্রপতি ছিলেন সাহাবুদ্দিন আহমেদ।

ওয়াহহবার মিয়ার অবসরে যাওয়ার কথা আগামী ১০ নভেম্বর। অন্যদিকে মাহমুদ হোসেন অবসরে যাবেন ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর।

ফলে ওয়াহহাব মিয়াকে প্রধান বিচারপতি করতে হলে কয়েক মাসের ব্যবধানেই রাষ্ট্রপতিকে আবার প্রধান বিচারপতি বাছাই করতে হতো। আর মাহমুদ হোসেন প্রধান বিচারপতি হওয়ায় তিনি আরও প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগদানে রাষ্ট্রপতি স্বাধীন। তিনি অন্য সব কাজে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করতে বাধ্য হলেও প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত একাই নিতে পারেন।

আবার প্রধান বিচারপতি নিয়োগে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকেই নিয়োগ দিতে হবে, এমন কোনো বিধান নেই।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদেরকে বলেন, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করার কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হবে না। এর আগেও বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতসহ বিভিন্ন দেশেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এটা অভিনব কোনো ঘটনা নয়।

প্রধান বিচারপতির পদ থেকে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা গত ১০ নভেম্বব পদত্যাগ করার প্রায় দেড় মাস আগেই তিনি ছুটিতে যান। আর তার ছুটির আবেদন করার পর ১ অক্টোবর থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিয়া।

১৩ অক্টোবর এক মাসের জন্য বিদেশে যাওয়া সিহনার দেশে ফেরার কথা ছিল ১০ নভেম্বর। কিন্তু সেদিন তিনি না ফিরে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ গত ১৪ নভেম্বর সেই পদত্যাগপত্র অনুমোদন করলেও সেটি কার্যকর হয় আর পদত্যাগপত্রে সই করার তারিখ থেকেই।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031