বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে একের পর এক মোবাইল চুরি করছে একটি চক্র চট্টগ্রামে। তারা গত এক মাসে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় একই কায়দায় বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। ভুক্তভোগীরা এসব চুরির ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এমনকি পুলিশকে তারা সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া ওই চারজনের ছবিও দিয়েছেন।

চার সদস্যের ওই দলে রয়েছে চল্লিশোর্ধ্ব এক নারীসহ এক কিশোর ও দুই তরুণ। একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটালেও তারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে, পুলিশ তাদের ধরার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে নগরীর আকবর শাহ থানার ওসি আলমগীর মাহমুদ।

গত ২৫ জানুয়ারি নগরীর আকবর শাহ থানাধীন উত্তর কাট্টলী বিশ্বাস পাড়া এলাকার বখতিয়ার কজেটে মালিক ইমতিয়াজ চৌধুরী বলেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিন ছেলেকে নিয়ে ওই নারী আমার বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য আসেন। ৫ তলায় ও ৬ তলায় ফ্লাট দেখিয়ে দারোয়ান নিচে নেমে গেলে ওই নারী দ্বিতীয় তলায় আমাদের ফ্লাটে আসে। আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে বলতে ওই নারী কিচেনে চলে আসে এবং বাসা পছন্দ হয়েছে জানিয়ে কাল অ্যাডভান্সের টাকা দিয়ে যাবেন বলে আমার স্ত্রীকে অনুরোধ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তার সঙ্গে আসা অপর তিন জন বেডরুমে ঢুকে আমার স্ত্রীর স্মার্ট ফোন নিয়ে যায়। ওই রুমে আমার ছেলে ছিল, তাদের মধ্যে বড় ছেলেটা খেলার ছলে ওকে রুম থেকে বের করে নিয়ে আসেন। এই ফাঁকে অন্যরা স্মার্ট ফোনটি নিয়ে যায়।তারা বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর পরই রুমে গিয়ে আমার স্ত্রী দেখতে পায় তার মোবাইল ফোনটি নেই। এরপর তাদের অনেক খোঁজাখুজি করেও পাওয়া যায়নি। আমরা আকবর শাহ থানা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। বাসার সিসিটিভি ফুটেজে তাদের শনাক্ত করে ওই ফুটেজ পুলিশকে দিয়েছি। কিন্তু এখনও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি।’

আকবর শাহ থানার ওসি আলমগীর মাহমুদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘এ রকম একটি চুরির অভিযোগ আমরা পেয়েছি। চোর চক্রের এই চার সদস্যকে ধরতে আমরা কাজ করছি।’

নগরীর বায়েজিদ থানাধীন টেক্সটাইল গেইট এলাকার বাসিন্দা এশিয়ান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তা আরিফ বিল্লাহ বলেন, ‘৫ জানুয়ারি এই চার জন আমাদের বাসায় এসেছিল। ওই দিন শুক্রবার ছিল, আমরা সবাই জুমার নামাজে ছিলাম। তবে আমাদের বাসা থেকে কিছু চুরি করতে পারেনি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এই চার জনের বিষয়টি আমি নিশ্চিত হয়েছি।’

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031