বিএনপি পুরোদমে প্রস্তুত এখনো অনুমতি না পেলেও চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে জনসভা করতে। নগরীর নাসিমন ভবনে দলীয় কার্যালয়ে অনুমতির আশায় অপেক্ষা করছেন দলের নেতাকর্মীরা। ওদিকে, আজ সন্ধ্যার পর নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপির কমপক্ষে ৩৭ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ৩৭ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় এ রিপোর্ট লেখার পর্যন্ত বিএনপি সমাবেশের অনুমতি পায় নি।

মাহবুবের রহমান শামীম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, না ভাই-জনসভা করার অনুমতি এখনো দেয়নি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। অথচ কাল বৃহস্পতিবার লালদীঘি মাঠে এই জনসভা করার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর স্বাক্ষরিত আবেদনপত্র গত ৮ই ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার চৌধুরীর কাছে পেশ করেছিলাম।
এরপর গত ১১ই ফেব্রুয়ারি পুলিশ কমিশনারের সাথে নগর বিএনপির ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করে শান্তিপূর্ণ জনসভার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশ কমিশনার অনুমতি দেওয়ার আশ্বাসও দেন। যা মঙ্গলবার রাতের মধ্যে জানিয়ে দেওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু এই ব্যাপারে বারংবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও পুলিশ কমিশনার আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত জনসভা করার অনুমতি দেয়নি। ফলে জনসভা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছি, বলেন মাহবুবের রহমান শামীম।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে লালদীঘিতে জনসভা করার ঘোষণা দেয় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি।
লালদীঘি মাঠের মালিক সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের কাছ থেকে অনুমতি পাওয়ার পর মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদনের কথাও জানান নগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান।
আবু সুফিয়ান বলেন, জনসভার অনুমতি আমরা এখনো পায়নি। প্রয়োজনে আগামীকাল সকালে আমরা আবার যোগাযোগ করব। জনসভা সফল করার জন্য আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছি। জনসভা অবশ্যই করব।
এদিকে বিকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মেহেদীবাগের বাসায় নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামীকাল ১৫ মার্চ চট্টগ্রামে সর্ববৃহৎ জনসভা হবে। জনসভা সফল করতে চট্টগ্রামের জনগণ প্রস্তুত।
আমরা দেখেছি বিগত দুই মাসে লালদীঘিতে অনেক দল সমাবেশ করেছে। এমনকি সরকারি দলও কয়েকটি সমাবেশ করেছে। তারা সমাবেশের অনুমতি পেলে আমরা কেন করতে পারব না?
তিনি বলেন, দেশে যদি সংবিধান থাকে, নাগরিক অধিকার থাকে, তাহলে অবশ্যই লালদীঘিতে সমাবেশের অনুমতি দিতে হবে। কারণ নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারো নেই। এ সময় দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রোজী কবীর ও এস এম ফজলুল হক উপস্থিত ছিলেন।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031