ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন নেপালের কাঠমান্ডুতে বিমান বিধ্বস্তে প্রাণে বেঁচে যাওয়া শাহরিন আহমেদকে নিয়ে তেমন কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শাহরিনের চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার দুর্ঘটনার তিন দিন পর একটি ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকায় পৌঁছেন শাহরিন। তাকে বিমানবন্দর থেকে নিয়ে আসনে বার্ন ইউনিটের একটি অ্যাম্বুলেন্স আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিল বিমানবন্দরে। সেখানে ছিলেন একজন চিকিৎসক এবং দুই জন সেবিকাও।

সেখান থেকে সরাসরি শাহরিনকে নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেলে। এ সময় তার দুই ভাইও সঙ্গে ছিলেন। বিকাল পাঁচটার দিকে বার্ন ইউনিটের দুই নম্বর ভিআইপ কেবিনে ভর্তি করা হয়।

পরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, ‘শাহরিনের শারীরিক অবস্থা আপাতত ভালো। তার পায়ে দুইটি ফ্র্যাকচার রয়েছে। শরীরে পাঁচ শতাংশ ডিপ বার্ন এখন  আমরা তাকে ড্রেসিং করব। এরপর তার কয়েকটি পরীক্ষা করব। এর বোঝা যাবে কীভাবে আমরা তার  চিকিৎসা  শুরু করতে পারি।’

বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান আবদুল কালাম, সাজ্জাদ খোন্দকার, হাসপাতালের পরিচালক এ কে এম নাসির উদ্দিন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণলায়ের জেষ্ঠ্য সহকারী সচিব ফয়েজ আহমেদ এবং শাহরিনের ভাই শরফরাজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
১২ মার্চ সোমবার কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৭১ আরোহীর মধ্যে ৫১ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে চার ক্রুসহ ২৬ জন ছিলেন বাংলাদেশি। আর আহত হয় বাংলাদেশের ১০ যাত্রী। এদের মধ্যে রিজওয়ানুল হককে নেপাল থেকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়।

আহত সবাইকেই দেশে অথবা উন্নত কোনো বিশ্বে নিজ খরচে চিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স। এদের মধ্যে শাহরিনই প্রথম বাংলাদেশি যিনি দেশে ফিরলেন।

শাহরিন কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজে ভর্তি ছিলেন। একটি টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, হাসপাতাল থেকে শাহরিনের বিদায়ের সময় চিকিৎসক ও নার্সরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। নেপালের ঐতিহ্য অনুযায়ী তাকে উত্তরীয় পরিয়ে ফুল উপহার দেওয়া হয়।

পেশায় চিকিৎসক শাহরিন এক বন্ধুর সঙ্গে তিনি কাঠমান্ডু ও পোখরা যাচ্ছিলেন বেড়াতে। অবতরণের আগে আগে তাদের বিমান এক দিকে কাত হয়ে গেলে সবাই চিৎকার শুরু করে। উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর আগুন ধরে যায়।
ওই পরিস্থিতির মধ্যে শাহরিনের গায়েও আগুন লাগে। বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি পড়ে যান। তবে কেউ একজন তাকে টেনে বের করে আনে।

কাঠমান্ডু মেডিকেলে থাকা মেহেদী হাসান, সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা এবং আলমুন নাহার অ্যানিও চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেয়েছেন। তাদেরও শিগগির দেশে পাঠানো হবে বলে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031