ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন মশা নিয়ন্ত্রণে ছিটানো ওষুধের কার্যকারিতা যখন প্রশ্নের মুখে তখন পতঙ্গটি নিয়ন্ত্রণে গাপ্পি মাছের ওপর ভরসা করেছিলেন । সাত মাস আগে পরীক্ষামূলক এই মাছ নালায় ছেড়ে একে মশা নিধনের অস্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই অস্ত্র এতদিনেও ব্যবহার প্রমাণ হয়নি।

শীত শেষে গরম আসতে না আসতে মশা যখন আবার নগরবাসীর বিরক্তির কারণ, তখন আবারও সেই গাপ্পি মাছের ভরসার কথাই বলে যাচ্ছেন মেয়র খোকন। জানাচ্ছেন, আগামী ২০ মার্চ পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ মাছ অবমুক্ত করা হবে অঞ্চল-৪ এর নালাগুলোতে।

অথচ ২০১৭ সালের ৭ আগস্ট রাজধানীর একটি সেমিনারে গাপ্পি মাছকে মশার বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ঘোষণা করে নালায় এই মাছ ছাড়ার ঘোষণা দেন মেয়র খোকন। সেদিন একটি নালায় তিনি এই মাছটি অবমুক্তও করেন। জানান, নগরীর অন্য নালা ও জলাশয়েও এই মাছ ছাড়া হবে। কিন্তু সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন আর দেখা যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাঈদ খোকন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘নগরীর অনেক এলকার ড্রেনগুলিতে পানি না থাকায় এই প্রকল্প হাতে নিতে সময় লেগেছে। এখন ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৪ জরিপ করা হয়েছে। সেখানের ড্রেনগুলিতে পানি রয়েছে। আগামী ২০ মার্চ পাইলট প্রকল্প হিসেবে গাপ্পি মাছ ছাড়া হবে। এই প্রকল্প কতটুকু সফল হয় সেটা দেখে পরবর্তীতে নগরীর সকল ড্রেনে এই মাছের পোনা ছাড়া হবে।’

মেয়রের ঘোষণার পর এতো দিনেও কেন গাপ্পি মাছের প্রকল্প নেয়া হয়নি জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘গাপ্পি মাছ ছাড়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে এই মাছ কার্যকর হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এ জন্য গাপ্পি মাছ ছাড়া হয় নাই। এই মাছ ছাড়লে কতোটা প্রভাব পড়ে তা আমাদের জানা নাই, না জেনে মাছ ছাড়া উচিত না। এ জন্য পরীক্ষামূলক উদ্যোগ আমরা নেই নাই।’

পোয়েসিলা রেটিকুলাটা প্রজাতির এই রঙিন মাছ অ্যাকুরিয়ামের বাহারি মাছ হিসেবেই পরিচিত। সব ধরনের আবহাওয়ায় এই মাছ দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে এবং পানির উপরের অংশে ঘোরাফেরা করে। এই মাছ মশার লার্ভা খেয়ে ফেলে বলে বিভিন্ন দেশে মশা নিয়ন্ত্রণে আগেও গাপ্পির ব্যবহার রয়েছে।

তবে গাপ্পি অতি দ্রুত বংশ বিস্তার করে বলে উন্মুক্ত জলাশয়ে এ মাছের ছড়িয়ে পড়া ক্ষতির কারণ হতে পারে। একটি গাপ্পি মাছ দিনে গড়ে পঞ্চাশটি লার্ভা ধ্বংস করতে পারে।

দেশের বাইরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে ২০১৬ সালের ১৮ আগস্ট জ্বরপ্রবণ পুরসভা এলাকাগুলিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন এবং মৎস্য দপ্তরের পরিকল্পনায় গাপ্পি মাছ ছাড়ার কর্মসূচি শুরু করা হয়েছিল।

ওই দিন আরামবাগ পুরসভা ছাড়াও উত্তরপাড়া-কোতরং, কোন্নগর, শ্রীরামপুর, বৈদ্যবাটি এবং বাঁশবেড়িয়া পুরসভা এলাকার নালাগুলিতে গাপ্পি মাছ ছাড়া হয়।

মেয়র সাঈদ খোকন বলছেন, ‘মশা প্রাকৃতিক উপায়ে প্রতিরোধ করতে পারলে সেটা সব চেয়ে ভালো হবে। ঢাকা দক্ষিণের ৪৫০ কিলোমিটার নালায় এই মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। এতে দরকার হবে প্রায় ১৫ লাখ পোনা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছরে মশা নিধনে বরাদ্দ ছিল ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এবার রাখা হয়েছে ২৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

গাপ্পি মাছেরর পরিচয়

গাপ্পি মাছ (Poecilia reticulata Fish) । এটি রামধনু মাছ নামেও পরিচিত। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় মাছ। ছোট, রঙিন এবং সহজে রাখা যাওয়ার অ্যাকুয়ারিয়ামপ্রেমীদের কাছে এর পরিচিতি ব্যাপক ।

গাপ্পির প্রাকৃতিক সীমা উত্তরপূর্বে দক্ষিণ আমেরিকা, বিভিন্ন দেশে প্রচলিত হয়ে এখন বিশ্বজুড়ে পাওয়া যায়। তারা অত্যন্ত অভিযোজন এবং বিভিন্ন পরিবেশ ও অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে। গাপ্পি সাধারণত বন্দী অবস্থায় তিন থেকে পাঁচ বছর এবং বন্য পরিবেশ এর চেয়ে কিছুটা কম বেঁচে থাকে।

গাপ্পি একটি সর্বভুক প্রাণী ও পানিতে পাওয়া যায় এমন অনেক জৈবপদার্থ খায়। গাপ্পি স্ত্রী মাছগুলো আকারে বড় (২-৬ সেমি) হয় পুরুষের (১ দশমিক ৫-৩ সেমি) তুলনায়। এই মাছ সব রকম আবহাওয়ায় বাঁচে।

জলাশয়ের উপরের স্তরেই মূলত ঘোরাফেরা করে। ২০ ডিগ্রি থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাই এদের বেশি পছন্দ। এরা দল বেঁধে থাকে এবং অন্যদের সঙ্গে থাকতেও কোনও আপত্তি করে না।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031