নতুন রেকর্ড হয়েছে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। প্রথমবারর মতো ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের মাইলফলক ছুঁয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে সোমবার পিক আউয়ারে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ছিল ১০ হাজার ৮৪ মেগাওয়াট।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও প্রকৃত উৎপাদন কখনও ১০ হাজার মেগাওয়াট ছাড়ায়নি।

এর আগে গত ১৫ মার্চ নয় হাজার ৭১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল। তার তিন দিন আগে উৎপাদন হয় নয় হাজার ৫৩৩ মেগাওয়াট। সেটিও ছিল রেকর্ড।

গত ২৩ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেনন, ‘এখন ১০ হাজার মেগাওয়াটের চাহিদা পূরণ করতে পারবে বিদ্যুৎ বিভাগ।’

২০০৯ সালে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। সরকারের টানা দুই মেয়াদের শাসনামলে দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।

এরই মধ্যে দেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা একশটি ছাড়িয়ে হয়েছে ১১৯টি। কয়লাভিত্তিক, গ্যাসভিত্তিক, তেলে চালানো, ডুয়েল ফুয়েল (গ্যাসেও চালানো যায়, তেলেও চালানো যায়) বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশাপাশি চলছে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারও ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে সরকার।

২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

এরই মধ্যে স্থাপিত সব কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে হয়েছে ১৬ হাজার ৪৬ মেগাওয়াট। আর দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশই এখন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে।

২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন উদযাপনে হাতিরঝিলে আতশবাজি উৎসবের আয়োজন করে বিদ্যুৎ বিভাগ।

তিন বছর পর ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের উৎসব হয় একই এলাকায়।

তবে উৎপাদন ক্ষমতা আর প্রকৃত উৎপাদন দুটি ভিন্ন বিষয়। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা জানান, সব কটি বিদ্যুৎকেন্দ্র কখনও সর্বোচ্চ ক্ষমতায় চালানো সম্ভব হয় না। আবার কিছু কেন্দ্র সব সময় মেরামত কাজ চালাতে হয়, কিছু কেন্দ্র আবার তৈরি করা হয়েছে কেবল পিক আউয়ারে চালানোর জন্য।

বিদ্যুৎ বিভাগের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের ৮৪ শতাংশ জনগণ বিদ্যুতের প্রতি সন্তুষ্ট। গত ২৩ জানুয়ারি সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এই বিষয়টি জানিয়ে বলেন, ‘তবে একখানেও অসন্তুষ্টের বিধান থাকবে। কারণ আমরা দেশের অনেক জায়গায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত প্রদান করতে পারিনি।’

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031