বাদ্য বাজনার তালে তালে আনন্দ-উল্লাস। রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন।  আছে বর্ণিল শোভাযাত্রাও। সবমিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ োগানে উদযাপিত হয়েছে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতির উৎসব। এ স্বীকৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এদিকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতিকে জনগণের প্রতি উৎসর্গ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করে শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রেষ্ঠ দেশ হিসাবে বাংলাদেশ মর্যাদা পাবে। সেটাই আমার কামনা। বাংলাদেশের এই অর্জন ধরে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অর্জন আমরা যারা সকলে একযোগে কাজ করেছি, যারা উন্নয়নে অবদান রেখেছে; সকলের অর্জন, বাংলাদেশের জনগণের অর্জন। আমি মনে করি, বাংলাদেশের সকল জনগণই হচ্ছে মূল শক্তি। এই জনগণই পারে সব রকম অর্জন করতে। এই অর্জন যেন কোনোভাবেই হারিয়ে না যায়, এই অর্জনের পথ ধরে বাংলাদেশ যেন আরও এগিয়ে যেতে পারে- সেটাই আমার চাওয়া।
শেখ হাসিনার ঘোষণার পর ঢোলের বাদ্যে সূচনা হয় উৎসবের। সাত দিনের এই উৎসবের উৎযাপন চলছে ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ োগান নিয়ে। ১৯৭৫ সালে স্বল্পোন্নত দেশ হওয়া বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়, মানবোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিসূচকের শর্ত পূরণ করে প্রায় ৪৩ বছর পর উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাচ্ছে। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) সম্প্রতি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি দেয়।
উৎসবের প্রথম দিনে গতকাল দুপুরের পর থেকে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে ছিল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢল। তারা শোভাযাত্রা নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সন্ধ্যার পর সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর পূর্বনির্ধারিত ৯টি স্পট থেকে বের হওয়া বর্ণিল এসব শোভাযাত্রা বিকাল ৫টার দিকে মিলিত হয় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে ৫৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ সংস্থা বর্ণাঢ্য এ শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন রঙের টি-শার্ট ও ক্যাপ পড়ে হাতে ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যান। এ শোভাযাত্রা আয়োজন উপলক্ষে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শোভাযাত্রা উপলক্ষে রাজধানীর কিছু সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের আশেপাশে নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে বাংলাদেশ অর্জনের এই দুয়ারে পৌঁছাতে পারত দশ বছরের মধ্যে। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক সময় লেগে গেল। এই অর্জনে বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট তাকেহিকো নাকাও, ইউএস এইডের প্রশাসক মার্ক গ্রিন এবং জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার প্রেসিডেন্ট শিনিচি কিতাওকার ভিডিও বার্তা দেখানো হয় অনুষ্ঠানে। এছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ভিডিও বার্তায় শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মুক্তিযোদ্ধা, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, জেলে, খামারি, ছাত্র-ছাত্রী, দিনমজুর, তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
মন্ত্রিসভার পক্ষে অর্থমন্ত্রী মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল; সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ; ১৪ দলের পক্ষে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দেন।
এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী, পেশাজীবী, নারী সংগঠন, এনজিও প্রতিনিধি, শিশু প্রতিনিধি, প্রতিবন্ধী প্রতিনিধি, শ্রমজীবী প্রতিনিধি এবং মেধাবী তরুণ সমাজের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দেওয়া হয়।
দেশের ক্রীড়াবিদদের পক্ষে ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি ফেকিতামোয়েলোয়া কাতোয়া। এছাড়া ইউএনডিপির প্রশাসক আখিম স্টেইনারের বার্তা পড়ে শোনানো হয়। অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পদ বিভাগের সচিব কাজী শহিদুল আলমের স্বাগত বক্তব্যের পর বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ওপর একটি প্রামাণ্য ভিডিও দেখানো হয়। এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে শেখ হাসিনা জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930