জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল মিয়ানমারের রাখাইনে বর্মী সেনাদের নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুর্দশার চিত্র দেখলেন । কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে প্রতিনিধি দল। তারা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি মিয়ানমারে সৃষ্টি, মিয়ানমারকেই এর সমাধান করতে হবে। মিয়ানমার-বাংলাদেশের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করা হবে। এজন্য নিরাপত্তা পরিষদ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে রাশিয়া ও চীন একমত পোষণ করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের চলতি মাসে সভাপতির দায়িত্ব পালন করা গুস্তাভো মেজা-চুয়াদ্রা বলেন, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে কীভাবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সহযোগিতা করা যায়, সেটি বুঝতে এ সফরে এসেছি। এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশকে আমরা সহযোগিতা করে যাব। তিনি বলেন, এখন যে পরিস্থিত রয়েছে, তা রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে ফিরে যাওয়ার জন্য উপযোগী নয়। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, এ সফর রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এর আগে সকালে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের তুমব্রু জিরো পয়েন্টে রোহিঙ্গাদের জীবনমান দেখতে যান সফররত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল। তুমব্রু জিরো পয়েন্ট পরিদর্শন শেষে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন নিরাপত্তা পরিষদ সদস্যরা। উভয় স্থানেই তারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন। রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদের কাছে তাদের ওপর চালানো মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্মমতার বর্ণনা দেন। রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে দেখতে দু’দিনের সফরে শনিবার বিকালে কুয়েত এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ইরাক থেকে সরাসরি কক্সবাজারে আসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলটি। কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে দলটি উখিয়ার ইনানীর রয়েল টিউলিপ হোটেলে গিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, রোববার বিকালেই বিশেষ বিমানে প্রতিনিধিদল ঢাকা ফিরে যাবে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঢাকা ছাড়বেন।
