৬৫ বছর বয়সী মির্জা শাহজাহান ধর্ষণ ও মাদকবিরোধী দৌড়ের পর এবার নিরাপদ সড়কের দাবিতে দৌড় শুরু করেছেন । ১ মে থেকে মহাসড়কে দৌড় শুরু করেন তিনি।
নিরাপদ রাস্তার দাবিতে শাহজাহানের দৌড় চলবে সামনের ঈদুল ফিতরের দিন পর্যন্ত। নিরাপদ সড়ক, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালক ও সহকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপসহ যানবাহনে নারীদের নিরাপত্তার দাবিতে প্রতিবাদী দৌড় দিচ্ছেন বলে জানান ব্যতিক্রমী এই মানুষটি।
কখনও পায়ে হেঁটে দৌড়াচ্ছেন কখনও বা বাইসাইকেল নিয়ে ঘুরছেন। শুক্রবার বেলা ১১টার মধ্যে রাবনা বাইপাস থেকে নগরজলপাই পর্যন্তসহ ছয় কিলোমিটার সড়ক দৌড়ান তিনি। এভাবে প্রতিদিন চলবে তার প্রতিবাদী এই দৌড়।
তার ধারণা, তার প্রতীকী এই প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ সচেতন হবেন। সরকার নেবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
এর আগে গত বছরের ২৫ আগস্ট টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ঢাকা আইডিয়াল ‘ল’ কলেজের ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণের পর হত্যার খবরে চমকে উঠেন শাহজাহান। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন এই জঘন্য ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দৌড়ে জনমত সৃষ্টি করবেন।
মধুপুর থানায় মামলার পর আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে দৌড় শুরু করেন শাহজাহান। এরপর প্রতি বুধবার আদালত এলাকা থেকে শুরু করে রূপা হত্যার বিচার সম্বলিত ফেস্টুন নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় দৌড়ান তিনি।
এরপর ৬ ডিসেম্বর একদল যুবক তার সঙ্গে দৌড়ে অংশ নেন। ১২ ফেব্রুয়ারি সোমবার রূপা হত্যার রায়ের আগেও আদালত চত্বরে দৌড়াতে দেখা যায় তাকে।
ঘটনার পর মাত্র ১৪ কর্মদিবসের মধ্যে মামলার রায় হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মির্জা শাহজাহান। তবে আইনজীবীর কাছে আপিল হতে পারে এই সংবাদ শুনে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২৬ ও ২৭ মার্চ রায় কার্যকরের দাবিতে ঢাকার হাইকোর্ট এলাকায় দৌড়ান শাহজাহান। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মাদকবিরোধী জনমত গঠনেও দৌড়ান তিনি।
মির্জা শাহজাহান টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার একঢালা গ্রামের মৃত মির্জা হানিফ উদ্দিনে ছেলে। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইল শহরের থানাপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন।
জনমত ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে শাহজাহানের ব্যতিক্রমী এই প্রতিবাদী উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
