ইউরোপের প্রভাবশালী তিন দেশসম্প্রতি ইরানের পরমাণু সমঝোতা চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়ানোর পরও চুক্তি অক্ষুণ্ন রাখার নিশ্চয়তা দিয়েছে । তবে এসব দেশকে শুধু রাজনৈতিক সমর্থন নয় বরং কাজে প্রমাণ দিতে হবে বলে জানিয়েছে ইরান।
রবিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি বিষয়ক প্রধান মিগুয়েল আরিয়াস ক্যানেটের সঙ্গে তেহরানে এক সাক্ষাতে একথা জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ। এ খবর দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পার্সটুডে।
জারিফ বলেন, ইইউ’র পক্ষ থেকে যখন পরমাণু সমঝোতা অক্ষুণ্ন রাখার আশ্বাস দেয়া হচ্ছে তখন ইউরোপের বৃহৎ কোম্পানিগুলো ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এমন দ্বৈত নীতির অবসান ঘটাতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকা বেরিয়ে যাওয়ার পর এটি বাস্তবায়নের ব্যাপারে ইউরোপের কাছে জনমতের আশা বেড়ে গেছে বলে জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ বিষয়ে মিগুয়েল আরিয়াস ক্যানেট বলেন, ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকা বেরিয়ে যাওয়ার পর এটি বাস্তবায়নের ব্যাপারে ইইউ’র উৎসাহ দ্বিগুণ বেড়েছে। ইউরোপের কোম্পানিগুলো যাতে ইরানে পুঁজি বিনিয়োগ করে সেজন্য ইইউ’র রাজনৈতিক নেতৃত্ব সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকা বেরিয়ে যাওয়ার ফলে এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাজ অনেকটা কঠিন হয়ে গেছে। তারপরও এ সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে ইইউ বদ্ধপরিকর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮ মে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে তার দেশকে বের করে নেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলেও চুক্তি বলবৎ থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় ইউরোপের তিন দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি।
২০১৫ সালে বিশ্বের প্রভাবশালী ছয় রাষ্ট্রের (যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি) সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ইরান। এর মাধ্যমে ইরানের ওপর থাকা সবধরনের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এটিকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন। তবে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর এ চুক্তিতে আমেরিকার কোনো স্বার্থ নেই উল্লেখ করে চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির অনুরোধ উপেক্ষা করেই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
