যদি না মানুষের উদ্বেগ আর ভালোবাসার ছোঁয়া না পেত সে পৃথিবীতে এসে মায়ের ভালোবাসা পেল না শিশুটি। সবুজ পৃথিবী তার কাছে নিষ্ঠুর হয়েই রইত।
এখনও নড়াচড়ার শক্তি সেভাবে পায়নি শিশুটি। কান্না দিয়েই তার অসুবিধা প্রকাশ করে। আর রাস্তার মধ্যে পড়ে থাকা একটি থলের ভেতর থেকে কান্নার শব্দেই তার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পারে মানুষ। খবর দেয়া হয় পুলিশকে।
রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকায় সড়কের বিভাজকে তোয়ালে মোড়ানো অবস্থায় পড়ে ছিল নবজাতকটি। তার কান্নার শব্দে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।
আর কাফরুল থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। তার অবস্থা খুব একটা খারাপ নয়।
শনিবার রাতে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক এবং কর্মীরা মায়ের অভাব কিছুটা হলেও পূরণ করার চেষ্টা করছেন।
কাফরুল থানার উপ-পরিদর্শক পুলক কুমার দাস মজুমদার ঢাকাটাইমসকে জানান, ‘এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে গ্রিন ইউনিভার্সিটির সামনে রাস্তার আইল্যান্ড থেকে একটি ছেলে শিশুকে উদ্ধার করা হয়।’
‘পরে তাকে রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১১ নম্বর নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।’
শিশুটিকে কে এখানে এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলে রেখে গেছে, সেটা স্থানীয়রা কেউ জানাতে পারেননি। তবে শিশুটি উদ্ধার করতে পেরে তৃপ্ত এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, শিশুটি সম্পূর্ণভাবে সুস্থ রয়েছে।
গত কয়েক মাসে নানা সময় বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন বয়সী শিশু পাওয়া গেছে। হাসপাতালে নেয়ার পর কেউ বেঁচে গেছে, কেউ পৃথিবীর রূপ রস দেথার সুযোগ হয়নি।
হাসপাতালের কর্মীরা জানান, সেখানে নেয়ার পর সাধ্যমত তার সুশ্রুষার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার খাবার থেকে শুরু করে কোনো অসুবিধা যেন না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখছেন সবাই।
শিশুটি কার, তাকে কার হেফাজতে দেয়া হবে, এসব চিন্তা তুলে রেখে আপাতত বাঁচিয়ে রাখার দিকেই মনযোগ ঢাকা মেডিকেলের কর্মীদের।
