প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারী অর্থ ব্যয় করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে ভারতের কাছে আকুতি জানাতে ভারত সফর করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন,। এমন খবরই দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে স্বার্বভৌমত্বকে দূর্বল করে ট্রানজিটসহ ভারতকে সব কিছু উজাড় করে দিয়েছেন শেখ হাসিনার সরকার। কিন্তু বিনিময়ে কিছুই পায়নি বাংলাদেশ। শুক্রবার ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধনের পরে সেখানেই মোদীর সঙ্গে বৈঠকে হাসিনা জানিয়েছেন ট্রানজিটসহ সব দিয়েছে তার সরকার, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বরাবর দিল্লির পাশে থেকেছে। বাংলাদেশের নির্বাচনের বছরে এবার তাই ভারতের সহযোগিতা চাই।

গণমাধ্যমের খবরে এটা পরিস্কার শেখ হাসিনা দেশের স্বার্থে ভারত যাননি, তিস্তার পানির জন্য যাননি, সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যার রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে যাননি, তিনি গেলেন ক্ষমতায় টিকে থাকার দেনদরবারে। আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা এখন ক্ষমতা হারানোর ভয়ে বিদেশীদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। আজ রোববার দলটির নয়াপল্টনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় রিজভী আরো বলেন, নিজ দেশের জনগণকে বাদ দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এখন মুরুব্বীদের কাছে দেনদরবার শুরু করেছেন। কারণ শেখ হাসিনা বুঝতে পেরেছেন তাদের দুঃশাসনের জবাব দিতে মানুষ প্রস্তুত হয়ে আছে। শেখ হাসিনার বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে। গণতন্ত্র হত্যা করে, দেশের বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করে  বন্দুকের জোরে আর ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। বিচার বহির্ভূত হত্যায় সারাদেশকে লাশের মিছিলে পরিণত করে, দূর্নীতি আর লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি আর দলীয়করণের মাধ্যমে গোটা দেশকে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য বানিয়েছেন শেখ হাসিনা। এখন তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি চেয়ারপারসন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের প্রধান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাগারে ঢুকিয়ে একটা অস্বাস্থ্যকর, জরাজীর্ণ, নানা অসুখ-বিসুখের উৎসস্থল অবাসযোগ্য কারাকক্ষের মধ্যে বাস করাতে বাধ্য করার পরও প্রধানমন্ত্রী এবার একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের মনোবাসনা পূরণে নিরাপদ বোধ করছেন না। তাই তাদের চিরাচরিত আশ্রয়স্থল ভারতের শরণাপন্ন হয়েছেন শেখ হাসিনা। আবারও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের মতো আরেকটি একতরফা নির্বাচন নিশ্চিত করে অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে। বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা গতকালও বলেছিলাম-সরকারের ইচ্ছা পূরণে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। এ নির্বাচন কমিশন গঠনের পর থেকে আমরা বলে আসছি প্রধান নির্বাচন কমিশনার আওয়ামী সরকারের ভোট জালিয়াতির বৈধতার রাবার স্ট্যাম্প হিসেবে কাজ করছেন। দেশের ভোটার’রা প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সুষ্ঠু ভোটের শত্রুপক্ষ বলে মনে করে। এখন পর্যন্ত সিইসি’র সকল কার্যক্রম আওয়ামী স্বার্থের অনুকুলেই বাস্তবায়ন হয়েছে। ইতোপূর্বে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিরোধী দল, সুশীল সমাজ, নির্বাচন বিশ্লেষক, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা যেসব সুপারিশমালা পেশ করেছিলেন সেগুলোর একটিকেও আমলে নেয়া হয়নি। ইসি’র কার্যকলাপে জনগণ মনে করে বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দিয়ে বাংলাদেশে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031