কাউকে হত্যা করা এই অভিযানের উদ্দেশ্য নয়। নিরপরাধ কাউকে ধরা হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন মাদকবিরোধী চলমান অভিযানে শতাধিক নিহতের পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন।

মাদকবিরোধী অভিযানে কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকের মামলা না থাকা এবং আর্থিকভাবে সঙ্গীন একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যেই এই দাবি করলেন আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

সোমবার সন্ধ্যায় গুলিস্তানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবার উদ্বোধন ও ইফতারে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘মাদক নিয়ন্ত্রণের যে যুদ্ধ এই যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই হবে।’

কামাল বলেন, ‘যারা তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী শুধু তাদেরকেই পুলিশ অথবা নিরাপত্তা বাহিনী ধরতে যাচ্ছেন এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসছেন।’

গত ৪ মে থেকে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে বা গোলাগুলিতে প্রাণ হারিয়েছে শতাধিক। এর মধ্যে টেকনাফ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যুর পর তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে মাদকের একটি মামলা হয়েছিল। তবে সেটি আদালতে মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে একরামুলের বিরোধ হয়। আর তখন থেকেই ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা এই কাউন্সিলরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করতে থাকেন।

২৬ মে কক্সবাজারে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন একরামুল। আর এরপর স্থানীয় জনতা এবং আওয়ামী লীগ নেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

একরামুল টাকা পয়সার অভাবে সংসার চালাতে পারছিলেন না। বড় ভাই আর দলীয় সম্পদশালীদের সহায়তায় দুই মেয়েকে পড়াশোনা করাচ্ছিলেন তিনি। ইয়াবার কারবারি হলে এমন দশা হওয়ার কথা নয়, বলছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে ফেসবুকে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। এতে তিনি পুরো বিষয়টি চক্রান্ত আখ্যা দিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে রাশ টানতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।

একরামুলের আর্থিক অসঙ্গতি, ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বিরোধ, তার মামলা আদালতে মিথ্যা প্রমাণ হওয়া, তিন বার ভোটে জেতা আর তার জানাযায় বিপুল পরিমাণ মানুষের উপস্থিতি তার ইয়াবার ‘গডফাদার’ পরিচয়কে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একরামুল বা কারও নাম উল্লেখ না করে বক্তব্য রাখেন। শতাধিক মানুষের মৃত্যুর পরও তিনি বলেন, কাউকে হত্যা করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়।

‘কোনো ধরনের মানুষ হত্যা করার পরিকল্পনা আমাদের সরকারের নেই। যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদের সব ধরনের সহয়তা দিচ্ছি যাতে করে তারা যেন আইনের সহায়তা নেয়।’

অভিযানে ১২ হাজার মাদক কারবারিকে আটক করে কারাগারে নেয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘জেলখানার দ্বিগুণেরও বেশি কারাগারে রয়েছেন।’

মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অলাউট যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। কিন্তু যুদ্ধ ঘোষণার মানে শুধু বন্দুক-কামানের যুদ্ধ নয়।’

‘সব রকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি শুধু মাদককের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। আমরা আমাদের মেধাকে হারাতে চাই না, আমাদের যুব সমাজকে হারাতে চাই না।’

‘যাদের বাসায় একজন মাদকসেবী থাকে শুধু সেই পরিবারটিই জানে তাদের কত যন্ত্রণা, কত কষ্ট।’

মাদকবিরোধী অভিযান জনগণের সমর্থন পেয়েছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘মাদককে নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করতে গোয়েন্দা, প্রশাসন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ, সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। আমরা যেভাবে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে নির্মূল করেছিলাম ঠিক সেভাবেই মাদককে নির্মূল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করছি।’

অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গাড়িগুলোতে অক্সিজেন মাক্সসহ দুইজন করে রোগী বহন করা যাবে।

অনুষ্ঠানে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাসুদ রেজওয়ান, কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনসহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031