ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ ও ইউপি সদস্য আ. রহিম হাওলাদার শরণখোলা উপজেলার রাজৈর এলাকায় দুবাই প্রবাসী একমাদক সম্রাজ্ঞী শাবনুর পালিয়েছে। পাওয়া গেছে ৭৫টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৫ লাখ টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর ষোলশহর আবাসিক এলাকার রিদোয়ান ম্যানশনের ৬ষ্ঠ তলার ৬বি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করা হয়।
পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়ালী উদ্দিন আকবর বলেন, মাদক সম্রাজ্ঞী শাবনুর ষোলশহর আবাসিক এলাকার রিদোয়ান ম্যানশনের ৬ষ্ঠ তলার ৬বি ফ্ল্যাটে ইয়াবা ব্যবসা চালানোর খবর পেয়ে অভিযান চালায় পুলিশ।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারি শাবনুর পালিয়ে যান। অভিযানে বাসায় ইয়াবাও পাওয়া যায়নি।
তবে বাসা থেকে ৬০টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, ১৫ টি অন্যান্য মোবাইল ফোন ও নগদ ৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) অলক বিশ্বাস জানান, ধারণা করা হচ্ছে শাবনুর শুধু ইয়াবা ব্যবসায়ী বা মাদক সম্রাজ্ঞীই নয়, মোবাইল ফোন চোকারকারবারীও। মাদক চক্রের পাশাপাশি তার মোবাইল ফোন চোরাই চক্রও রয়েছে। শাবনুরকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কে এই শাবনুর জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করুক। পরে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন। টি পরিবারকে মারধর করে কাঁটা তারের ঘেরা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে । গত পাঁচদিন ধরে তাদেরকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন তারা। আবারও হামলার আশঙ্কায় দুটি শিশু সন্তান নিয়ে পরিবারটি বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, গত ৩রা জুন শরণখোলা ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ ও ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রহিম উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর এলাকার দুবাই প্রবাসী মো. খলিলুর রহমান তালুকদারের বাড়িতে লোকজন নিয়ে হামলা চালান। খলিলের বাড়ির মধ্যে তাদের জমি রয়েছে দাবি করে পুরো বাড়িঘর কাঁটা তার দিয়ে ঘিরে ফেলেন তারা। খলিলের স্ত্রী ফহিমা বেগম মোবাইল ফোনে যেন কারো সাথে যোগাযোগ করতে না পারে এজন্য আসাদ মোবাইলটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন।

এ সময় গৃহকর্তা খলিলুর রহমানকে মারধর করে ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য শাসিয়ে যান তিনি। গত ৫ দিন ধরে ওই পরিবারটি দুটি শিশু সন্তান নিয়ে ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবযাপন করছে।

এ ব্যপারে ২নং খোন্তাকাটা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রহিম হাওলাদার জানান, ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত থাকলেও জমি দখল বা কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় জড়িত নয়। ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন,  খলিলের বাড়ির মধ্যে পাওনা জমি কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে  দখলে নেওয়া হয়েছে। আমাদের জমির ওপর দিয়ে তাদের বের হতে দেয়া হবে না।
খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন বলেন, একটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা অমানবিক ও বেআইনী। ঘটনায় জড়িতরা যে দলেরই হোক না কেনো তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কবিরুল ইসলাম জানান, ঘটনা তাকে কেউ জানায়নি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিংকন বিশ্বাস জানান, এব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানা পুলিশকে বলা হয়েছে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031