প্রায় পঁচিশ জনের একটি ডাকাত দল ভারতের বিহারে ট্রেনের দরজা-জানালা পাথর দিয়ে ভেঙে, ট্রেন দাঁড় করিয়ে চারটি কামরায় বেপরোয়া লুটপাট চালিয়েছে। লুট করতে বাধা দেয়ায় ট্রেনের এক টিকিট পরীক্ষক এবং এক যাত্রীকে বেধড়ক মারধর করল ডাকাতরা। অথচ ওই সময়ে গোটা ট্রেনে একজনও নিরাপত্তা রক্ষী ছিলেন না।
মঙ্গলবার এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে আসা পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলগামী ডাউন পাটলিপুত্র এক্সপ্রেসে।
এসি কামরার অ্যাটেনডেন্ট সিরাজ বলেন, ‘ট্রেন জামুই স্টেশনের আগে কুনদার হল্টে দাঁড়িয়েছিল।হঠাৎ দরজা-জানালায় পাথর বৃষ্টি। তারপরেই পাথর দিয়ে দুটি কামরার মাঝের ভেস্টিবিউলের দরজা ভেঙে দরজা খুলে ঢুকে পড়ে সাত-আট জন সশস্ত্র ডাকাত। তারপরই তারা কুড়াল, হাসুয়া, দেশি বন্দুক উঁচিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে লুট শুরু করে।’
পাটনা থেকে ট্রেনে উঠেছিলেন বিজয় কুমার। তিনি বলেন, ‘প্রায় ২০-২২ জন ছিল। কয়েকজনের হাতে পিস্তল। বাকিদের হাতে বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র।তারা যাত্রীদের কাছ থেকে গয়না ও নগদ টাকা লুট শুরু করে। এক যাত্রী বাধা দিয়েছিলেন। তাকে মাথায় আঘাত করে ডাকাতরা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এই লুটতরাজ।’
যাত্রী থেকে শুরু করে ট্রেনে থাকা রেলকর্মীদের অভিযোগ, একজনও নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন না ট্রেনে। অজয় কুমার ওই ট্রেনেরই একজন অ্যাটেন্ডেন্ট।
তিনি বলেন, ‘পাটনা থেকে আরপিএফের জওয়ানরা উঠেছিলেন। মোকামা স্টেশনে তারা সবাই নেমে যান। গোটা ট্রেন কার্যত অরক্ষিত ছিল।তাই ট্রেনে যখন বড় বড় পাথর মেরে ডাকাতরা দরজা ভাঙছিল, তখন বাধা দেয়ার কেউ ছিল না।’
পাটলিপুত্র এক্সপ্রেস গভীর রাতে আসানসোল স্টেশনে পৌঁছলে তারা অভিযোগ দায়ের করেন। আহতদের চিকিৎসাও করা হয় সেখানে।এরপর ট্রেন আসানসোল থেকে রাঁচির দিকে রওনা হয়। রেল পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। কেন কোনও নিরাপত্তারক্ষীরা ট্রেনে ছিলেন না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, আরপিএফের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
