আজ শনিবার প্রকাশ করা হচ্ছে না বন্যার কারণে আসামে নাগরিকত্ব নির্ধারণের ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (এনআরসি)-এর পূর্ণাঙ্গ খসড়া তালিকা। বিলম্বে পাওয়া খবরে এ কথা বলা হয়েছে। অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক খবরে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ছিল ৩০ শে জুন ওই তালিকা প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু বন্যার কারণে রাজ্যের ৫টি জেলার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দিয়েছেন এনআরসির সমন্বয়কারী প্রতীক হাজেলা।
তিনি বলেছেন, ৩০ শে জুনের মধ্যে এনআরসির পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু আমরা তা করতে পারছি না। বরাক উপত্যাকা, করবি অ্যাংলং ও হোজাই জেলাগুলোতে বন্যার কারণে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ দিন আমরা কোনো কাজ করতে পারি নি। সরকারি একজন কর্মকর্তা বলেছেন বরাক উপত্যাকার হাইলাকান্দি, করিমগঞ্জ ও কাছার এলাকায় এনআরসির প্রায় ৯০টি সেবা কেন্দ্র বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে কোর্টকে জানিয়েছেন হাজেলা, যাতে বিলম্বের কারণে আদালত অবমাননা না হয় এবং আদালত এই বিলম্বকে অনুমোদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়ে শুনানি করবে আগামী ২রা জুলাই। এ দিন ছুটির পর আদালত খুলবে। প্রতীক হাজেলা বলেন, শুনানি শেষে এনআরসির খসড়া তালিকা প্রকাশের নতুন তারিখ ঘোষণা করবেন আদালত। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর এনআরসি তার প্রথম খসড়া তালিকা প্রকাশ করে। ওই সময়ের মধ্যে ৩ কোটি ২৯ লাখ মানুষ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ৯০ লাখের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল তখন। এনআরসি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ আসামে। প্রথম এই তালিকা প্রণয়ন হয়েছিল সেখানে ১৯৫১ সালে। তারপর প্রতি ১০ বছর পর পর তা নবায়ন করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আসামে বাংলাদেশী অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে গেছে বলে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। তার প্রেক্ষিতে তীব্র আন্দোলন হয়। ভারতের জাতীয় নির্বাচন ও রাজ্য নির্বাচনগুলোতে এ ইস্যুটি উঠে আসে। বড় ধরনের রাজনীতি হয় এ নিয়ে। বলা হয়, এই ইস্যুতেই আসামে ক্ষমতায় ফেরে বিজেপি। কিন্তু বিবিসি সহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে বলা হচ্ছে, এনআরসি তালিকা করার লক্ষ্য হলো সেখানকার বাংলাভাষীদের বের করে দেয়া। এর প্রধান টার্গেট হলো স্থানীয় মুসলিমরা। বাংলা ভাষায় কথা বলা এসব মুসলিমকে বাংলাদেশী অবৈধ অভিবাসী আখ্যায়িত করা হচ্ছে। তাদেরকে এনআরসি তালিকা থেকে বাদ দেয়া হলে ফেরত পাঠানোর কথা বাংলাদেশ। এ জন্য কয়েক লাখ বাংলাভাষী আসামে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
