মানুষ সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ডেরা প্রদেশ থেকে দলে দলে পালাচ্ছে। জাতিসংঘ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের সংখ্যা প্রায় এক লাখ হবে। এসব মানুষ সিরিয়া সরকারের আক্রমণের কারণে পালাচ্ছে ইসরাইল ও জর্ডানের দিকে। এতে ভয়াবহ এক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে বলে বলছে জাতিসংঘ। বলা হচ্ছে, দেখা দিতে পারে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ও। ডেরা হলো বিদ্রোহীদের সর্বশেষ শক্তিশালী ঘাঁটি ।

স্থানীয় অধিবাসীরা বলছেন, ওই এলাকায় অব্যাহতভাবে শোনা যাচ্ছে সিরিয়ার হেলিকপ্টার অথবা রাশিয়ার যুদ্ধবিমানের শব্দ। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে আরো বলা হয়, ১০ দিন ধরে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে তীব্র বিমান হামলা ও গোলা নিক্ষেপ করা করছে সরকারি বাহিনী। শুক্রবার সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন একটি চিত্র তুলে ধরেছে। তাতে দেখানো হয়েছে, ডেরা শহরের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের বেশ কিছু গ্রামে অস্ত্র ফেলে পালিয়েছে বিদ্রোহীরা। সেখানকার মাসিফ্রা শহর থেকে পালিয়েছেন এমন একজন অধিকারকর্মী বলেছেন, সেখানকার পরিস্থিতি বিপর্যয়কর। কেউই সেখানে নিরাপদ নেই। বৃহস্পতিবার সেখানে একটি অস্থায়ী তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন কিছু মানুষ। তা লক্ষ্য করে বোমা হামলা করা হয়েছে। সেখানে রাশিয়ার ওই হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৭ জন। ১০ দিনের অভিযানে কমপক্ষে ৯৮ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করছে সিরিয়ান অবজার্ভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। বলা হয়েছে, এ সময়ে পাঁচটি মেডিকেল সেবাদানকারী স্থাপনায়ও হামলা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার জায়েদ রাদ আল হোসেন এ পরিস্থিতিতে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, যদি ডেরা শহরে অবরুদ্ধ অবস্থা অব্যাহত থাকে তাহলে বেসামরিক মানুষজন বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এক্ষেত্রে তিনি সব পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন। সিরিয়ায় ডেরাতে বিদ্রোহীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। সেখানে উত্তেজনা প্রশমন বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও প্রতিবেশী জর্ডানের উদ্যোগে একটি চুক্তি আছে। তাহলে কেন সেখানে হামলা চালানো হচ্ছে? এর জবাবে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ও তার মিত্র রাশিয়া বলছে, সন্ত্রাসীদের টার্গেট করে তারা হামলা চালাচ্ছে। এটি চুক্তির অধীনে কোনো হামলা নয়। হোম ও পূর্ব ঘৌটা থেকে যেভাবে বিদ্রোহীদের হটিয়েছে সরকার, ঠিক একইভাবে অপারেশন চালানো হচ্ছে। ডেরা শহরের ওপর ফেলা হয়েছে লিফলেট। তাতে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী আসছে। তাই ঘৌটা শহরের ভাইয়েরা যেমনটা করেছেন সেভাবে যেন ডেরার লোকজন সন্ত্রাসীদেরকে বের করে দেন। জাতিসংঘের মতে, গত ১৯ শে জুন এই অভিযান শুরু হয়েছে। এর ফলে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার বেসামরিক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। তারা জর্ডান ও ইসরাইল সীমান্তের কাছে উন্মুক্ত আকাশের নিচে দুঃসহ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সেখানে তারা গড়ে তুলেছে অস্থায়ী আবাস। বিরোধী দলীয় কর্মী জালাল আল আহমাদ বলেছেন, অনেক মানুষ গাছের নিচে, তাদের গাড়ির নিচে ঘুমাচ্ছে। আর কিছু মানুষ তাঁবু পেতে তার নিচে অবস্থান নিয়েছে। সিরিয়ার মিডিয়াতে বলা হয়েছে, সীমান্তে আটকে পড়া এসব মানুষকে সীমান্ত অতিক্রম করতে দিচ্ছে না বিদ্রোহী যোদ্ধাদের কিছু সদস্য। তারা সীমান্ত পাড় হতে প্রতিজনের কাছ থেকে নগদ অর্থ দাবি করছে। এর মাধ্যমে তারা শত শত কোটি ডলার পকেটস্থ করছে। এমন পরিস্থিতিতে অধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো জর্ডানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এসব মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে। বলা হয়েছে, এদেরকে রক্ষা করতে জর্ডানের সীমান্ত খুলে দিন। কিন্তু জর্ডান এ পর্যন্ত আশ্রয় দিয়েছে সিরিয়ার কমপক্ষে ৬ লাখ ৩০ হাজার শরণার্থীকে। কিন্তু ২০১৬ সালে একটি চেকপয়েন্টে জর্ডানের ৭ জন সেনাকে বোমা হামলায় হত্যার পর তারা তাদের সীমান্তের সব চেকপয়েন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। তবে এখনকার পরিস্থিতিতে অনেক সাধারণ জর্ডানিয়ান সহায়তার হাত প্রসারিত করতে আহ্বান জানিয়েছে সরকারের প্রতি। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হ্যাসট্যাগ সৃষ্টি করেছে। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘ওপেন দ্য বর্ডার’। অর্থাৎ সীমান্ত খুলে দাও। আমরা তাদেরকে খাবার দেবো। ওদিকে সিরিয়ার নাগরিকদের আশ্রয় দেয়ার কোনো নীতি নেই ইসরাইলের। তাদের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই। তবে সীমান্তের কাছে উভয় দেশের যোদ্ধা বা বেসামরিক লোকদেরকে মেডিকেল ও অন্যান্য সহায়তা দেয় তারা। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী শুক্রবার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, সেনারা অধিকৃত গোলান উপত্যাকায় ট্রাকে ত্রাণ সহায়তা লোড করছে। এই গোলান উপত্যকা ইসরাইল নিয়ন্ত্রণ করে।
Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031