বিচারিক আদালত মানহানির পৃথক দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন না-মঞ্জুর করেছেন। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম মো. খুরশীদ আলম ও যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত ও জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করার মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম মো. আহসান হাবীব গতকাল জামিন না-মঞ্জুরের এ আদেশ দেন। এ দুই মামলার বিচারকাজ রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে চলছে। গতকাল খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার, নুরুজ্জামান তপন প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) আব্দুল্লাহ আবু।

আদেশ শেষে মাসুদ আহমেদ তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুটিই জামিন যোগ্য অপরাধের মামলা।

কিন্তু আদালত জামিন দেননি। আমরা এ আদেশের বিরুদ্ধে জজ আদালতে আপিল করবো।’ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘দুটি মামলাতেই আদালত জামিন না-মঞ্জুর করেছেন। জামিনযোগ্য অপরাধের মামলা হলেই জামিন দিতে হবে- এটি আমি মনে করি না। এই মামলাগুলোতে জামিনযোগ্য ধারা থাকলেও জামিনের হকদার তিনি নন।’

এ দু’টি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য গত ২২শে মে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবীরা। শুনানি নিয়ে ৩১শে মে এক আদেশে খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন নিষ্পত্তি করে বিচারিক আদালতে তার করা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। গত ৬ই জুন এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ আদেশ প্রকাশিত হয়। আদেশের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, ‘খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর ও জামিনের আবেদন নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ভুল পথে পরিচালিত  হয়েছেন।’ পরে এ আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করে। ১১ই জুন চেম্বার আদালত এক আদেশে হাইকোর্টের দেয়া ওই আদেশ বহাল রেখে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক দু’টি আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। ২৫শে জুন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন।

প্রসঙ্গত, যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানানো এবং তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দেয়ার অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩রা নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী। শুনানি নিয়ে আদালত ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। পরে তেজগাঁও থানা পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে  মর্মে সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। অন্যদিকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩০শে আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক  ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মহানগর হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে খালেদাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031