১৩ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির এক আদালত‘রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের’ অভিযোগ এনে চীনের শীর্ষ পর্যায়ের একজন গণতান্ত্রিক আন্দোলন কর্মীকে ও একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকে ।

বুধবার বিবিসি জানায়, ৬৪ বছর বয়সী কিন ইয়ংমিন ইতোমধ্যে ২২ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন।

এর আগে মানবাধিকার আইনজীবী লিন কুইলেই বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, বিচার চলাকালীন ‘আদালতের কার্যক্রমে সহায়তা করতে প্রত্যাখ্যান’ করেন কিন। আদালতের পুরোটার সময় তিনি নিশ্চুপ ছিলেন।

মধ্য চীনের উহান সিটি ইন্টারমিডিয়েট পিপলস’ কোর্ট কিন-কে কারাদণ্ড দেয়ার বিষয়টি অনলাইনে নিশ্চিত করেন।

চীনে মানবাধিকার রক্ষাকর্মীদের এনজিও’র গবেষক ফ্রান্সেস ইভ জানান, ‘একটি গণতান্ত্রিক চীন এবং মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করায়’ কিন-কে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে তদন্ত করেও তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা প্রস্তুত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।’

চীনা ডেমোক্র্যাসি পার্টির সহপ্রতিষ্ঠাতা কিন ইয়ংমিন। ১৯৮৮ সালে এই দলের সরকারিভাবে নিবন্ধন করাতে চাইলে তাকে ১২ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়। এর এক বছর পর কারাগারে থাকা অবস্থায়ই তিনি নোবেল শান্তি পুরষ্কারের জন্য মনোনীত হন।

২০১৫ সালে জানুয়ারি মাসে কিন গ্রেপ্তার হওয়ার সময়ও চীনা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নামে একটি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। এই কার্যক্রম ছিল গণতান্ত্রিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আলোচনার আয়োজন করা এবং সরকারের নীতিমালা নিয়ে অনলাইনে সমালোচনা করা।

চীনের নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী লিউ জিয়াওবোর স্ত্রী লিউ জিয়া জার্মানির উদ্দেশে চীন ছাড়ার একদিন পরই কিনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হলো।

২০১০ সালে স্বামী লিউ জিয়াওবো নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই ৫৭ বছর বয়সী লিউ জিয়াকে বিনা অপরাধে গৃহবন্দি করে রেখেছিল চীন সরকার। কিন্তু কয়েকমাস ধরে মানবাধিকার কর্মী ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর চাপের মুখে মঙ্গলবার জিয়া মুক্তি পান।

জিয়ার স্বামী লিউ জিয়াওবো ছিলেন চীনে গণতান্ত্রিক আন্দোলন কর্মী এবং মানবাধিকারের অন্যতম পথিকৃৎ ও প্রবক্তা। সরকারের সমালোচনা করার অভিযোগে তার কারাদণ্ডও হয়েছিল। তার অবিরাম অহিংস আন্দোলন আর মানবাধিকারে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। গত বছর লিভার ক্যানসারে তিনি মারা যান।

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930