রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শিল্পকর্মে জাতীয় সংস্কৃতি ও কৃষ্টি ফুটিয়ে তুলতে শিল্পীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শিল্পী তার নিজস্ব চেতনা, পারিপার্শ্বিকতা তথা স্থান–কাল–পাত্রকে ধারণ করে তা ফুটিয়ে তোলেন তার শিল্পকর্মে। তাই দেশ–কাল–সংস্কৃতি ভেদে শিল্পীর স্বরূপ ও কর্মকাণ্ড ভিন্নতর হতে পারে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে শিল্পের নান্দনিকতা ও আবেদন সীমাহীন ও চিরন্তন। প্রতিটি শিল্পকর্মে ফুটে উঠে শিল্পীর নিজস্ব চিন্তা–চেতনার পাশাপাশি জাতীয় সংস্কৃতি ও কৃষ্টি। তাই শিল্পকর্ম ও শৈল্পিক ভাবনা ব্যক্তিশিল্পীর হলেও তার সৃষ্টিশীল কর্মের ব্যাপ্তি সর্বত্র এবং তা সর্বজনীন। গতকাল শনিবার ‘১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ ২০১৮’–এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বক্তব্য দিচ্ছিলেন। খবর বিডিনিউজের।

বিশ্বের ৬৮টি দেশের চারুশিল্পীদের অংশগ্রহণে মাসব্যাপী এই আয়োজনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় ৪৬৫ জন শিল্পীর ৫৮৩টি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হবে। এশিয়ার বৃহত্তম এই চারুকলা প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ১৯৯ জন শিল্পী। তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন ১০৭ জন শিল্পী, প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন ১৩ জন মাস্টার পেইন্টার, পারফর্মেন্স আর্টে থাকছেন ১৬ জন এবং বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নিচ্ছেন ৬৩ জন শিল্পী।

মোট ২৬৬ জন বিদেশি শিল্পী অংশ নেবেন আসরে, যাদের মধ্যে ২২৩ জন শিল্পী প্রতিযোগিতায় শিল্পকর্ম জমা দিয়েছেন, ২৯ জন বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নিচ্ছেন এবং ১৪ জন পারফর্মেন্স আর্টিস্ট তাদের শিল্পনৈপুণ্য প্রদর্শন করবেন। আয়োজনে থাকবে দেশি–বিদেশি শিল্পীদের মোট ৩৬৮টি পেইন্টিং, প্রিন্ট ও ফটোগ্রাফি, ৩৩টি ভাস্কর্য, ৫২টি ইনস্টলেশন আর্ট এবং ৩০ জন পারফর্মেন্স আর্টিস্টের শিল্পনৈপুণ্য প্রদর্শনী। বিশেষ সংযোজন হিসেবে রয়েছে কারুপণ্য মেলা, ফুড কোর্ট, আর্ট ক্যাফে, শিশু কর্নার, আর্ট ক্যাম্প, পারফর্মেন্স আর্ট ওয়ার্কশপ এবং ভাস্কর্য উদ্যান।

জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ওই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতি গঠনেও শিল্প–সংস্কৃতির ভূমিকা অপরিসীম। বাঙালি জাতির অর্জনের পেছনে শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের রয়েছে অসামান্য অবদান। আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যের পথ ধরে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে এ দেশের শিল্পীসমাজ বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে আসছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তি সংগ্রামসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এ দেশের শিল্পী সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। জাতির যে কোনো প্রয়োজনে বা সংকটময় মুহূর্তে সংস্কৃতিকর্মীরা সবসময় সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। অর্জন করেছে দেশবাসীর অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এই চিত্রকলা প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে স্মারক ডাকটিকেট উন্মোচন করেন। পরে রাষ্ট্রপতি ছয়জন শিল্পীকে সম্মানসূচক ও তিনজনকে গ্রান্ড পুরস্কার দেন। পরে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ প্রদর্শনী কক্ষ ঘুরে দেখেন।

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930