প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদ দাওরায়ে হাদিসকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবিতে মাস্টার্সের সমমান দেয়ার বিলের ওপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ।

কমিটির সভাপতি আফছারুল আমীন  প্রতিবেদনে বিলটি সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ করেন। চলতি সংসদেই বিলটি পাস হওয়ার কথা রয়েছে। এটি পাস হলে কওমি ছাত্র-শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ‘আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কাওমিয়া বাংলাদেশের অধীন কওমি মাদ্রাসা সমূহের দাওরায়ে হাদিস তাকমিলের সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবির সমমান প্রদান) বিল ২০১৮’ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদেন চেয়ে বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠান।

এর আগে বাংলাদেশে পনের লাখ শিক্ষার্থী কওমি মাদ্রাসায় পড়েন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বাস্তবে স্বীকৃত কোনো ডিগ্রি না থাকার ফলে শিক্ষা লাভ করার পরে বাস্তব কাজে তারা নিজেদের নিয়োজিত করতে পারেন না। আমাদের এই মাদ্রাসাসমূহ এবং আলেমদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আইন করার জন্য বিলটি নিয়ে আসা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার নির্দেশে আমরা বিলটি নিয়ে এসেছি। স্বল্প সময়ের মধ্যে বিলটি আমাদের পাস করা প্রয়োজন।’

গত ১৩ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। আর সেদিনই বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে বিলটি তোলার কথা জানানো হয়।  এর আগে ২০১৭ সালের এপ্রিলেই এই স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কওমি সনদের স্বীকৃতির বিষয়টি এই মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি।  গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হলেও এই স্বীকৃতির বাস্তবায়ন হয়নি।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের শীর্ষ আলেম শাহ আহমদ শফীকে প্রধান করে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। তবে সে সময় নিজেদের মধ্যে বিরোধের পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ শক্তির বিরোধিতায় সেটা আর আগায়নি।

২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদকে ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির স্বীকৃতির ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন গণভবনে উপস্থিত ছিলেন আহমদ শফীসহ দেশের কওমি আলেমদের শীর্ষ প্রায় সবাই।  এর দুই দিন পর কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদকে সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির স্বীকৃতি দিয়ে আদেশ জারি করে সরকার।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) উচ্চপর্যায়ের আলেমদের সঙ্গে দফায় দফায় বসে এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে।

আইনে যা আছে

কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে এবং দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিগুলোকে ভিত্তি করে এই সমমান দেয়া হলো।’

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই সমমান দেয়ার লক্ষ্যে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারাসিল আরাবিয়া- বেফাক সভাপতি হিসেবে পদাধিকার বলে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই কমিটি সনদবিষয়ক যাবতীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বিবেচিত হবে। এদের তত্ত্বাবধানে নিবন্ধিত মাদ্রাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিসের সনদ মাস্টার্সের সমমান বিবেচিত হবে।

এই কমিটির অধীনে ও তত্ত্বাবধানে দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা হবে। পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, পরীক্ষা পদ্ধতি, পরীক্ষার সময় নির্ধারণ, অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফলাফল এবং সনদ তৈরিসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এক বা একাধিক উপ-কমিটি গঠন করতে পারবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়গুলো অবহিত করবে কমিটি। এই কমিটি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকবে।

Share Now
June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930