বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করে। বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করে। তাদের যে মানসিক যাতনা এর প্রেক্ষিতে দেশের দায়িত্ব তার হাতে অর্পিত। এই অবস্থায় আমরা ভালো কিছু চাইলেও তিনি ভালো কিছু করতে পারেন না।’
সোমবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ নিয়ে বিএনপির এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা।
জাফরুল্লাহ বলেন, ‘দেশে কথা বলাটা বিপদ। কথা বললে সত্য প্রকাশ হয়ে যাবে। সরকার চায় না মানুষ কথা বলুক। পৃথিবীর সব দেশে রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করা হয়। কিন্তু আমাদের সরকার এটাও চায় না, কারণ তাদের এত গন্ধ যে কথা বললে আরও গন্ধ ছড়াবে।’
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে ‘পৃথিবীর জঘন্যতম আইনগুলোর একটি’ বলে উল্লেখ করেন জাফরুল্লাহ। তবে সত্য কথা বলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘দিনকে দিন সত্য কথা বলতে শিখতে হবে। না হলে সত্য প্রকাশ হবে না।’
বিচার বহির্ভূত হত্যারও সমালোচনা করেন এই বুদ্ধিজীবী। বলেন, ‘চট্টগ্রামে জঙ্গিরা তারা হয়তো খারাপ কাজই করছিল। তারা মারা গেল। এতগুলো র্যাব সদস্য সেখানে ছিলো তাদের জীবিত ধরতে পারলো না? এমনকি জঙ্গিদের ছবিও প্রকাশ করা হলো না! এগুলো যাতে প্রচার করা যায় সেজন্যই এই আইন করা হচ্ছে।’
ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দেয়া বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন জাফরুল্লাহ। বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি বললেন ডাকসু নির্বাচনের কথা। তিনি এক বছর আগে একথা বলেছিলেন। তার তো লজ্জা হওয়া উচিত। কারণ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য্য। বিএনপি নেতারাও দেখছি বলছে এই মুহূর্তে ডাকসু নির্বাচন দরকার নেই। আরে এটা কেন? হারলে হারবেন।’
ওই অনুষ্ঠানে সাপ্তাহিক হলিডের সম্পাদক সৈয়দ কামালউদ্দিন বলেন, ‘এই আইনটি করা হয়েছেন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য। যাতে সরকারি দলের প্রতিপক্ষদের আরও বেশি করে ঘায়েল করা যায়, হয়রানি করা হয়। আমি মনে করি এই আইন স্বাধীন সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।’
ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, ‘যখন সরকার ৫৭ ধারায় নির্যাতন-অত্যাচার করে যখন দেখল কাঙ্ক্ষিত নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, তখনই এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি করা হল।’
‘এর মাধ্যমে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকেই শুধু নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি, গোটা দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।’
মতবিনিময়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ফখরুল বলেন, কেবল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নয়, তারা বর্তমান সরকারের আমলে করা কোনো আইনই মানেন না। তার যুক্তি, এই সংসদে জনগণের প্রতিনিধি নেই। তাই এটি অবৈধ।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।
