ধর্মনিরপেক্ষতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আওয়ামী লীগ জনগনের সঙ্গে প্রতারনা করছে বলে অভিযোগ করেছেন । গতকাল রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের শুভ বিজয়ার অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, গত দশবছরের একটা দুইটা না অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। সে সব ঘটনায় দেখা গেছে হিন্দু সম্প্রদায়, বৌদ্ধ সম্প্রদায়, খৃষ্টান সম্প্রদায়ের জমি দখল করছে আওয়ামী লীগের সদস্যরা। আওয়ামী লীগ দুইটা ব্যবসা খুব ভালো পারে। একটা হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা ব্যবসা আরেকটা মুক্তিযুদ্ধের ব্যবসা। এই দুটিকে বিক্রি করে তারা রাজনীতিকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে। আমরা সবাই জানি এটা প্রতারনা ছাড়া আর কিছুই না।
মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় ধর্মনিরপেক্ষতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রচারনা চালায়। যে প্রচারনার মধ্য দিয়ে তারা জনগনকে বিভ্রান্ত করে। তারা যে ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলে আপনাদেরকে বিভ্রান্ত করে- এটা আপনাদের সচেতনভাবে জানতে হবে। তিনি বলেন, তাদের অবস্থা এমন যে, এদেশে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউ যেন মুক্তিযুদ্ধ করেনি। যারা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলবে তারা হবে স্বাধীনতার শত্রু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের যে মূল চেতনা গণতন্ত্র, সেটাকেই তারা গিলে বসে আছে। গণতন্ত্রকে ধবংস করেছে। ওরা আমাদের সমস্ত অধিকারগুলোকে কেড়ে নিয়ে সেবা দাসে পরিণত করেছে। অথচ বলে তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা ভয়াবহ একটা সময় অতিক্রম করছি। আমাদের জাতিসত্ত্বা আজকে বিপন্ন। আমরা জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আজকের এই সমস্যা শুধু বিএনপির নয়। শুধু হিন্দু বা মুসলমানের নয়। আজকের সমস্যা গোটা বাংলাদেশের জনগনের। আজ আমরা জানিনা একটা স্বাধীন সার্বভৌম জাতি হিসেবে টিকে থাকতে পারবো কিনা। কেউ ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যেতে পারব কিনা। কারণ এই আওয়ামী লীগের অধিনের সকল নির্বাচনে সরকারি কর্মচারিরা ও পুলিশ ভোট দিয়েছে। ভালো মানুষ ভোট দিতে পারে না। এভাবে সরকার নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়াকে ধবংস করে ফেলেছে। আমি আহ্বান জানাব, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আজকে আমরা যে সংগ্রাম শুরু করেছি এটা কোনো দলের জন্য নয়। এই সংগ্রাম কোনো ব্যক্তির নয়। এই সংগ্রাম হচ্ছে গণতন্ত্রকে মুক্ত করার সংগ্রাম। বাংলাদেশের মানুষকে মুক্ত করার সংগ্রাম। তাই আমাদের সকলকে এক হতে হবে। জনগনের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। এই দানবকে সরানোর জন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে আঘাত করতে হবে। আগামী নির্বাচনে প্রমাণ করে দিতে হবে এই দেশের মানুষ গণতন্ত্র চায়। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা ৭টা দাবি দিয়েছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে, সংসদ বাতিল করতে হবে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। এই দাবিগুলো তফসিল ঘোষণার আগে পুরণ করতে হবে। দাবি পুরণ না হলে জনগন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই দাবি আদায় করে নিয়ে দেশে একটা সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা। করবে এটাই হচ্ছে আমাদের প্রত্যয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মেজর জেনারেল অব. মাহবুবুর রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহবায়ক গৌতম চক্রবর্তী, কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত কুন্ডু, অপলেন্দু দাশ অপু, রমেশ দত্ত, দেবাশীষ রায় মধু, তপন দে, মিল্টন বৈদ্য প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী শান্তিকারানন্দ মহারাজ, স্বামী কল্পেশানন্দ মহারাজ, বাংলাদেশ মাইনরিটি পার্টির সাধারণ সম্পাদক সুকৃতি মন্ডল, বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র স্বাধীন কুন্ডু, হিন্দু মহাজোটের সদস্য সমীর সরকারও বক্তব্য রাখেন। পরে অনুষ্ঠানে আগত হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।বষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেয়া হয়নি।