‘শিগগিরই তাদের নেতৃত্বে ফেরার সম্ভাবনা নেই এখনকার বিএনপি ‘খালেদা-তারেকবিহীন’ বলে উল্লেখ করে লেখক-গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ মনে করছেন।’

বুধবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি’র টকশো ‘রাজকাহন’-এ অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। নবনীতা চৌধুরীর সঞ্চালনায় টকশোতে  আরো ছিলেন দৈনিক আমাদের নতুন সময় পত্রিকার সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান এবং ইকোনমিকস টাইমস পত্রিকার সম্পাদক শওকত মাহমুদ।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এর মধ্যে আওয়ামী লীগ কিন্তু একটা বড় কাজ বিএনপির মধ্যে মাইনাস টু ফর্মুলা সংযুক্ত করে দিয়েছে। এখনকার বিএনপি হচ্ছে খালেদা-তারেকবিহীন বিএনপি। শিগগিরই তাদের কামব্যাক করার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বৃহস্পতিবার সংলাপে বসছেন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে। এতে অংশ নিচ্ছে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল বিএনপিও। সংলাপে জায়গা পাবে ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি।

তবে নাঈমুল ইসলাম খান মনে করেন, ‘এটা সংলাপ নয়, আলোচনা। সংলাপের একটি কাঠামো থাকে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কোনো চিঠিতে সংলাপ শব্দটাই ছিল না।’

তার মন্তব্য, ‘ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের দেয়া সাত দফা বেশ দক্ষতার সঙ্গেই আরোপ করা হয়েছে। ফলে দাবিগুলোর অনেক কিছুই সরকারের পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব।’

সাত দফা সরকারের পক্ষে কিভাবে মেনে নেয়া সম্ভব?- ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নাঈমুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম দফায় সরকারের পদত্যাগের কথা বলা হয়েছে, যা সরকারের পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব। সরকারের পদত্যাগ বলতে বোঝাবে, এই মুহূর্তে সরকারটা যেভাবে আছে পদত্যাগ করবে। সংবিধানের কাঠামো অনুযায়ী শেখ হাসিনার উপর দায়িত্ব পড়বে নতুন একটা সরকার গঠনের। তিনি যেভাবে রাজি হবেন, সেভাবে করবেন। তিনি কিন্তু একবার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন, ছোট সরকার গঠনের।’

সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান আরো বলেন, ‘সাতটা ধারার মধ্যে মিটমাট করার মত অনেকগুলো পয়েন্ট আছে। সবটা নাই। তারা যখন সব লিখেছেন, তারা নিজেরাও সবটা পাবেন, এটা মনে করে লেখেননি।’

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে চিত্রনাট্যের সঙ্গে তুলনা করে গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সব সময় বলে এসেছে, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে। এটাও কিন্তু সংবিধানবিরোধী। সংবিধানের কোথাও কিন্তু এ কথাটা নেই।’

‘আওয়ামী লীগ মনে করে, শেখ হাসিনা যদি সরকারে যদি না থাকেন, তাহলে নির্বাচনে তাদের হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিএনপি মনে করে, শেখ হাসিনা যদি সরকারে থাকেন, তাহলে তাদের হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’

শওকত মাহমুদ মনে করেন, যুক্তফ্রন্ট ও বিকল্পধারা প্রধান সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে সরকার প্রধানের সংলাপ আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যেও বিষ্ময় কাজ করছে। কারণ, আমি জানি যে, আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষনেতাও জানতেন না যে, তাদের নেত্রী এভাবে সংলাপে রাজি হবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিরোধী দল তো সংলাপ চেয়েছিল। দুই দিন আগেও বলা হলো, না, অসম্ভব। কিন্তু রাজি হলেন। কেন? ওবায়দুল কাদের তার বক্তব্যে বলেছেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার জন্য।’

দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে না- এমন কোনো শঙ্কা শাসক দলের মধ্যে বিরাজ করছে কি না- এমন প্রশ্নও তোলেন শওকত মাহমুদ।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031