চিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন তিনি মাধ্যমিকে পড়াশোনা করার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন। কিন্তু অংকে প্রত্যাশা অনুযায়ী নম্বর না পেয়ে পরে মানবিকে পড়াশোনা করেন।

গত ২৩ নভেম্বর তরুণদের সঙ্গে মত বিনিময় অনুষ্ঠান ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’তে কথা বলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) আয়োজিত অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, তরুণ পেশাজীবী, অ্যাথলেটস, খেলোয়াড়, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ দেড়শর জনের মতো তরুণ অংশ নেন। বৃহস্পতিবার এই অনুষ্ঠানটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচার হয়।

রান্নাঘরের কথা থেকে শুরু করে, কৈশরের দুরন্তপনা, স্কুলজীবনের মজার ঘটনা, মায়ের কাছে আবদার মেটানোর কৌশলসহ অজানা কথা উঠে এসেছে অনুষ্ঠানে।

এই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে ফেরা, সেই সময়ের কঠোর পরিস্থিতি, বাংলাদেশের উন্নয়ন, তার রাজনৈতিক দর্শন, উন্নয়নের চেষ্টা নিয়ে কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে নানা ব্যক্তিগত প্রশ্নেরও জবাব দেন শেখ হাসিনা। উপস্থাপকের পাশাপাশি তরুণরাও নানা প্রশ্ন ও পরামর্শ তুলে ধরেন।

কী হতে চেয়েছিলেন- এমন প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘ছোট বেলায় আমার ইচ্ছা ছিলো ডাক্তার হবো। এসএসসি পরীক্ষা দিলাম, তখন দেখলাম অঙ্কে কাঁচা। আর বন্ধুরা সবাই আর্টসে ছিল, আমিও আর্টসে ভর্তি হই।’

‘এরপর ইচ্ছা ছিলো শিক্ষক হবার। আবার শিক্ষক মানে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। বাচ্চাদের পড়াব।’

রাজনীতিতে কখন কিভাবে আসলেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাজনৈতিক একটি পরিবারে জন্ম। আর রাজনীতি আমাদের সাথে এমনভাবে জড়ানো ছিলো যে রাজনীতি ঠিক কখন প্রবেশ করালাম তা সঠিকভাবে বলতে পারব না।’

 ‘স্কুল জীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত। সেই সময় শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বাতিলের আন্দোলন, তারপর আরো বিভিন্ন আন্দোলন। যখন আন্দোলন হতো, তখন এটা ঠিক স্কুল পালিয়ে চলে যেতাম সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বট তলায় মিটিং শোনার জন্য।’

আবার স্কুল থেকে আমাদের সংগঠন করতে হবে, ছাত্রলীগ করতে হবে বলা হলো। তাই স্কুল থেকে বিভিন্ন স্কুলে যেতাম। মেয়েদেরকে বোঝাতাম কেনো আমাদের সংগঠন করতে হবে।’

সরকারের জন্য কাজ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে, বিশেষ করে নাতি নাতনিদের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন- এই বিষয়টিও জানতে চাওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেটা আমার নাতীদের জিজ্ঞাসা করলে বলবে। আমরা লুডু খেলি, ক্যারাম খেলি, দাবা খেলি।’

‘তারা আমার হাতের রান্না পছন্দ করে। আর ছোট একটা আছে সে আবার খুব ডিমান্ড করে। বলে দেয়, তুমিই রান্না করবে। ববির ছোটটা। সে বলে, তুমিই রান্না করবে।’

‘সে কোলে চড়ে বসে আবার নির্দেশও দেয়। এটা দাও, ওটা দাও। বৃদ্ধ বয়সে নাতী-নাতনী নিয়ে থাকার থেকে আর কোন সুখের সময় হয় না।’

উপস্থাপক নুজহাত চৌধরী বলেন, ‘এত খাটেন, আপা নিজের জন্য সময় পান?’

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসলে আমার নিজের বলতে কিছু নেই। আর রাতে পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাই। আর বাকি সময় চেষ্টা করি, কত দ্রুত আমার কাজগুলো শেষ করতে পারি।’

‘কারণ আমি জানি, যে কোনো মুহূর্তে চলে যেতে হতে পারে। কখনও গুলি, কখনও গ্রেনেড হামালায়। তাই প্রতিটি মুহুর্তে দেশের মানুষের জন্য কিছু করে যাওয়ার চেষ্টা করি।’

শরীরকে ফিট রাখতে কী করেন, এমন প্রশ্নও ছিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের জীবনে রুটিন ঠিক থাকে না। তবে ফিট থাকতে- আমি নামাজ পড়ি নিয়মিত।’

‘আর তেমন ব্যয়াম করার সুযোগ হয় না। আর গণভবনে থাকা বন্দি জীবনের মতন। তারপরও চেষ্টা করি সকালে উঠে একটু হাঁটতে। ছাদে হাঁটি।’

‘পরিমিতভাবে খেলে সুস্থ থাকা যায়। আর চিন্তা ভাবনাকে সচ্ছ রাখা এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ আমি সুস্থ থাকব, এটা ভাবা।’

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ কবে হবে- এমন এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই তার স্বপ্ন। এ জন্যই তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

অবসরে ‍নাতি-নাতনিদের সঙ্গে লুডু-ক্যারাম-দাবা খেলেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031