দশম সংসদের বিদায়ী মন্ত্রীরা একাদশ সংসদে মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়া নতুনদের স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, নতুনদের জায়গা দিতে, পুরাতনদের সরে যেতে হবে- এটাই জগতের নিয়ম। গতকাল সচিবালয়ে শেষ কার্যদিবসে তাদেরকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় তারা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসব মন্তব্য করেন। বলেন, একাদশ সংসদেও যোগ্য ও দলের পরীক্ষিতরাই স্থান পেয়েছেন। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার প্রশংসা করে। পাশাপাশি নতুনদের সহযোগিতার জন্য পাশে থাকার অঙ্গীকারও করেন সদ্য বিদায়ী মন্ত্রীরা। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ভুলত্রুটির জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন তারা।
কেউ আসবে কেউ যাবে, এটাই নিয়ম: তোফায়েল
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সোনালী অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, এটা (মন্ত্রণালয়) হলো একটি আসা-যাওয়ার রঙ্গমঞ্চ।
কেউ আসবে কেউ যাবে, এটাই নিয়ম। গতকাল মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিদায় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সদ্য বিদায়ী বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল বলেন, আমি ৯ বছর বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলাম, বাংলাদেশে এতো সময় ধরে আর কেউ-ই এ দায়িত্বে ছিলেন না। তিনি বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী দূরদর্শী চিন্তার মধ্যদিয়ে এবারের মন্ত্রিসভায় নতুনদের জায়গা দিয়েছেন। যারা মন্ত্রী হচ্ছেন তারা সবাই যোগ্য, পরীক্ষিত নেতা। এবারের সংসদ হবে প্রাণবন্ত। গতবার যেমন বিরোধী দলের নেতারা মন্ত্রী ছিলেন, এবার তা নেই। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, চলার পথে ভুলত্রুটি হতে পারে। আশা করি সবাই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি প্রায়ই বলতাম এখানে সচিব থাকবে, আমি থাকবো না। তাই একই পরিবারের সদস্য হয়ে সৎ থেকে দায়িত্বের সঙ্গে উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে।
বিদায় নয়, শেষ কার্যদিবস: শাজাহান খান
বিদায় নয়, মন্ত্রণালয়ে আমার আজ শেষ কার্যদিবস বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য বিদায়ী নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা খুব বাস্তবমুখী। তার এই অগ্রযাত্রায় সবাই সাহসী ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করছি। গতকাল সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শাজাহান খান বলেন, আমার মেয়াদে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। এখনো কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব অসমাপ্ত প্রকল্পের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে। সদ্য বিদায়ী এই মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষ একজন রাষ্ট্রপরিচালক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বিচক্ষণতার সঙ্গে নতুন এই মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। নতুনদের কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। কর্ম উদ্দীপনা নিয়ে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।
আমি যা নই তার চেয়ে বেশি পেয়েছি: নাহিদ
সকলের সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়, দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সদ্য বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। একইসঙ্গে মন্ত্রণালয়ে উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় সকলকে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিদায়ী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ বলেন, আমার যে কৃতিত্ব তা আপনাদের সবার। আমি যা নই, তার চেয়ে বেশি দায়িত্ব পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কৃতিত্বের অধিকারী। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১০ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ হয়েছে। মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা আধুনিক করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষার মান বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বমানের শিক্ষা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। নাহিদ বলেন, নতুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি একজন অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ মানুষ। শিক্ষা পরিবারের যে অগ্রগতি তা তিনি এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আপনারা সবাই তাকে সহযোগিতা করবেন। বিগত ১০ বছরের সফলতার ধারাবাহিকতাও রক্ষা করবেন।
নতুনদের জায়গা করে দিতে হয়, এটাই নিয়ম: কামরুল
সদ্য বিদায়ী খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের স্বাগত জানাই। নতুনদের জন্য জায়গা করে দিতে হয়, এটাই নিয়ম। নতুন যে মন্ত্রী দায়িত্বে আসছেন, তিনি তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখবেন। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে শেষ কর্মদিবসে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন ও পুরাতনদের নিয়ে সময়োপযোগী মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিগত পাঁচ বছর আমাকে যেভাবে সহায়তা করেছেন, উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে নতুন মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারকেও আপনারা সেভাবে সহযোগিতা করবেন।
