ওবায়দুল কাদের ঐক্যফ্রন্টের হয়ে নির্বাচিত গণফোরামের দুই নেতা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে চান জানানোর পর তাদেরকে স্বাগত জানিয়েছেন । বলেছেন, তারা চান গণফোরামের সদস্যরা সংসদে এসে বিতর্ক করুক। এতে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।
সোমবার সচিবালয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
৩০ ডিসেম্বরের ভোটকে কারচুপি আখ্যা দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ীরা শপথ নেবেন না বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই জোটের হয়ে জিতেছেন মোট আট জন যাদের ছয় জন বিএনপি নেতা এবং দুই জন গণফোরামের।
এদের মধ্যে মৌলভীবাজার-২ থেকে ধানের শীষ নিয়ে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং সিলেট-২ আসনে উদীয়মান সূর্য নিয়ে জিতেছেন গণফোরামের মোকাব্বির খান। এরা দুই জন জানিয়েছেন, তারা শপথ নেবেন।
ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের দুই এমপির শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। এটাকে আমি ইতিবাচক হিসেবে নিচ্ছি। এটাতো ভালো। তারা সংসদে আসলে অবশ্যই আমরা স্বাগত জানাব। আমরা চাই তারা আলোচনা করবেন বিতর্কে অংশ নেবেন। তারা যতই সমালোচনা করবে ততই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপিকেও সংসদে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মির্জা ফখরুল সে আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ফখরুলকে সংসদ আমন্ত্রণ জানিয়ে ফোন করবেন কি না- এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘বিএনপির সেক্রেটারি যদি বলেন পক্ষপাতমূলক নির্বাচন হয়েছে। তাহলে তিনি কি পক্ষপাতমূলকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন? তিনি কীভাবে নির্বাচিত হলেন? তিনি কারো দয়ায় নির্বাচিত হয়নি। এটা তার অধিকার। তাকে ফোন করে আনতে হবে কেন?
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলেও বিএনপিকে ছাড়া সংসদ শুরু হচ্ছে- এই বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নও ছিল কাদেরের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপি তাদের নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন। তারা যদি অংশ না নেয় তাহলে আমরা কি তাদের জোড় করে আনব? বিএনপিতো গেল পাঁচ বছর সংসদে ছিল না। সংসদ চলেনি?’
গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বিএনপির না যাওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে দেখছেন, জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির দুই তারিখে সবদলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তারা আসতে পারেন। এটা একটা গার্ডেন পার্টি। ফাঁকে ফাঁকে কথা বলা যাবে। তারা কেন আসবেন না এটা তাদের ব্যাপার।’
‘আমরা নির্বাচনের আগে দুই দফা সংলাপ করেছি। ফলে তাদের আমরা আগেও গুরুত্ব দিয়েছি। এখানে তারা আসলে আলাপ আলোচনা হতে পারত। কিন্তু তারা যেভাবে বিষয়টিকে রিঅ্যাক্ট করেছেন সেটা তাদের স্বভাবসুলভ নেতিবাচক রাজনীতি।’
পৃথিবীর কোন দেশে পারফেক্ট নির্বাচন হয়েছে?- এমন প্রশ্ন রেখে কাদের বলেন, ‘সেটা কি বলতে পারবেন। বাঘা বাঘা দেশেও নির্বাচন নিয়ে কথা উঠেছে। ভুল ত্রুটি থাকতে পারে। সেটা ব্যাপার নয়। সেটা তো বৈধতার কোন সংকট নয়। তবে আমাদের এই ইলেকশন যে আওয়ামী লীগের গণজোয়ার উঠেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।’
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এক লেখনি নিয়েও আওয়ামী লীগ নেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। তিনি লিখেছিলেন একসঙ্গে দুইবার এই দেশে কোনো দলই ক্ষমতায় আসতে পারবে না। অথচ আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় বার ক্ষমতায়।
ভবিষ্যতবাণীতে কোনো ভুল ছিল কি না- এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘দৃশ্যপট সবসময় এক থাকে না। আমি যখন লিখেছি তখন প্রেক্ষাপট তেমনেই ছিল। এটা তো জনমতের উপর নির্ভর করে। জনমত যখন পাল্টে গেছে তখন পরিস্থিতি তো পাল্টাতে পারে। তাই না?’
