প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ী এমপিদের সংসদে না আসাকে ’রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত’  বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, যারা (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট)  নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও অল্প সিট পেয়েছেন বলে অভিমানে পার্লামেন্টে আসছেন না,আমার মনে হয়, এটা রাজনৈতিক একটা ভুল সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছেন। কারণ ভোটের মালিক জনগণ, জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে এবং সেভাবেই জনগণ ভোট দিয়েছে। কাজেই আমার আহ্বান থাকবে,যারাই নির্বাচিত সংসদ সদস্য তারা সবাই পার্লামেন্টে আসবেন, বসবেন এবং যার যা কথা সেটা বলবেন। এটাই আমি আশা করি। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ৩০ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে আরও বলেন, আমরা চেয়েছি সকলে সম্মিলিতভাবে দেশটাকে গড়ে তুলব। তাই আমি নির্বাচনের আগে সকল দলকে ডেকেছিলাম, সুন্দর পরিবেশে বৈঠক করেছি এবং সকলকে আমি আমন্ত্রণ করেছিলাম যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।

তিনি বলেন, গত ১০ বছরের দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে, সেই উন্নয়নের সুফল দেশের জনগণ পেয়েছে। আর সুফল পেয়েছে বলেই জনগণ বহুপূর্ব থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েই রেখেছিল যে, তারা আমাদের নৌকা মার্কায় ভোট দেবে এবং জনগণ সেই  ভোট দিয়েছে। সংসদ নেতা বলেন, এখন যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও অল্প সিট পেয়েছে বলে অভিমানে তাঁরা পার্লামেন্টে আসছেন না। আমার মনে হয় এটা তাদের একটা রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত। কারণ ভোটের মালিক জনগণ, জনগণ যাকে খুশি তাঁকে ভোট দেবে এবং সেভাবেই তারা দিয়েছে। সংসদে আসলে তাদের (বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ী এমপিরা) যদি কোন কথা থাকে, তাহলে তারা কিন্তু বলার একটা সুযোগ পাবে। আর এই সুযোগটা শুধু পার্লামেন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। যেহেতু মিডিয়াতে সম্পূর্ণভাবে অধিবেশন সরাসরি দেখানো হয় এবং সংসদ টিভিও আছে, তার মাধ্যমে সারাদেশের মানুষ তাদের কথা জানতে পারবে। এই সুযোগটা তাঁরা কেন হারাচ্ছেন আমি জানি না। আমার আহ্বান এটাই থাকবে, যারাই নির্বাচিত সদস্য তারা সবাই পার্লামেন্টে আসবেন, বসবেন এবং যার যা কথা সেটা বলবেন এটাই আমি আশা করি। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নোত্তরে সংসদ নেতা বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানী, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া, জাপান এবং ওআইসির নেতৃবৃন্দসহ প্রায় সকল গণতান্ত্রিক দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান আমাকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৯৭ বিশ্ব নেতা জনগনকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন। এসব বার্তা পেয়ে দেশবাসীর সঙ্গে আমিও গর্বিত ও আনন্দিত। এসব অভিনন্দন বার্তায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির জন্য আমাদের সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

Share Now
February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728