প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাটজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহারের প্রতি গুরুত্বারোপ করে পাট নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) দুই দিনব্যাপী পাটপণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্বের মানুষ এখন পরিবেশ সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন উল্লেখ করে এটাকে বাংলাদেশের জন্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই সুযোগে পরিবেশবান্ধব পাটপণ্য আমরা সারাবিশ্বে রফতানি করতে পারব। পাট চাষী, পাট ব্যবসায়ী ও পাট শিল্পের যারা হতাশ ছিলেন তারা এখন সুদিন ফিরে পেয়েছেন। কারণ সোনালী আঁশের সোনালী দিন এখন ফিরে আসছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এটাকে কীভাবে লাভজনক করা যায় সে পথ খুঁজে বের করতে হবে। পাট কৃষিপণ্য হিসেবে প্রণোদনা পেতে পারে। আবার পাটজাত পণ্য রফতানিযোগ্য বলে সেখানেও প্রণোদনা পেতে পারে।
তিনি বলেন, দেশে-বিদেশে পরিবেশবান্ধব পাট পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমার বিশ্বাস, পাটের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনতে পারবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় পাটকলের আধুনিকায়নসহ পাটখাতের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে।
অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক
ব্যবহার আইন-২০১০’ এবং ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার
বিধিমালা-২০১৩’ কার্যকর করা হয়েছে।
পাটজাত পণ্যের বহুমুখীকরণের জন্য পাট
পাতা থেকে পানীয়, পাটের আঁশ থেকে ভিসকস ও পচনশীল পরিবেশবান্ধব সোনালি
ব্যাগ, জিও জুট টেক্সটাইল, পাটকাঠি থেকে চারকোলসহ ২৫০ প্রকারের পাটজাত পণ্য
উদ্ভাবন ও বাজারজাতকরণের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান সরকার প্রধান।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক) অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জা আজম এমপি।
