প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ‘নির্বাচনের রাজনীতি’ ধ্বংসের জন্য সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমান এদেশের ভোটের রাজনীতিটাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করল। তার হ্যাঁ-না ভোট, তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন . . .। সেনাপ্রধান আবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজেকে ঘোষণা দিয়ে সেই অবস্থায় নির্বাচন করার অর্থ হল একদিকে সেনা আইন ভঙ্গ করা, সেনাবাহিনীর রুলস রেগুলেশন ভঙ্গ করা, অপরদিকে সংবিধান লংঘন করা। এই যে একটা অনিয়মের যাত্রা শুরু, এই প্রক্রিয়াই চলতে থাকল বাংলাদেশে।’ আওয়ামী লীগ আমলে গত দুটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রশ্ন তুলে আসার মধ্যে গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় একথা বলেন শেখ হাসিনা। খবর বিডিনিউজের।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কিছু লোক খুব বাহবা দিল জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছে। এটা যদি সত্যিই বহুদলীয় গণতন্ত্র হয় তাহলে ক্ষমতায় বসে থেকে, ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে সে যে একটি দল গঠন করল এবং সে দলও একবার ১৯ দফা কর্মসূচি .. এরপর আসল কি? জাগো দল..এরপর আসলো কী কী সব তারপর আসলো বিএনপি। এই ৩/৪ ধাপ পার করে একটা দল করল আর সেই দল সৃষ্টির সাথে সাথে যারা ক্ষমতায় বসে ক্যান্টনমেন্ট থেকে সৃষ্ট করা দল..যারা হাঁটতে শিখলো না, চলতেও শিখলো না, কারও কাছে যেতেও শিখলো না, তারা টু থার্ড মেজরিটি পেয়ে গেল! এই মেজরিটি পাওয়ার পেছনে রহস্যটা হল অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমান চেয়েছিল, যে সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতায় এসেছে, কাজেই সংবিধান সংশোধন করে তার অবৈধ ক্ষমতা বৈধ করার একটা পদ্ধতি পাওয়ার জন্যই টু থার্ড মেজরিটি দরকার।
শেখ হাসিনা বলেন, কাজেই এই অবৈধ ক্ষমতা বৈধকরণের আকাঙ্ক্ষায় এই যে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করা, জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার যাত্রা শুরু। জিয়ার পথ ধরে এরশাদ ক্ষমতায় এসেছে, আবার খালেদা জিয়ার ক্ষমতা দখলটাও ওই একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ছিল। ক্যান্টনমেন্টে বসেই সে ক্ষমতাটা দখল করেছিল। জনগণ তাদের ভোট দিয়ে যেভাবে প্রতিনিধি নির্বাচন সেই সুযোগটা তখনও আসেনি। এরপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর পরিস্থিতির বদল ঘটে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে দেশের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

Share Now
June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930